বিয়ের মাত্র ২৯ দিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে

0
40

বিয়ের মাত্র ২৯ দিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে আসতেই
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ৬ জুন দক্ষিণ দিনাজপুর: বিয়ের মাত্র ২৯দিনের মাথায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত এক শ্রমিকের বলে অভিযোগ উঠেছে।কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে। মৃতের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম ইজামুল হক (৩৪)।তাঁর বাড়ি গঙ্গারামপুর থানা এলাকায়। মাত্র ২৯দিন আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।বাবার পরিবর্তে একটি বেসরকারি ঠিকাদারের অধীনে গঙ্গারামপুর ব্লক বিদ্যুৎ বিভাগের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় ভাদ্রা এলাকায় বিদ্যুতের একটি ত্রুটি মেরামতির কাজে যান ইজামুল-সহ তিনজন শ্রমিক। সেই সময় ভদ্রা এলাকার একটি ট্রান্সফরমার লাইনের সংযোগ বন্ধ করা হলেও কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইজামুল। গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভিড় জমান পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং অন্যান্য শ্রমিকেরা। এরপর ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয় এবং কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মিঞা বলেন,”ঠিকাদারদের তাড়াহুড়ো ও চাপের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের ২৯ দিনের মাথায় একটি তরতাজা যুবকের প্রাণ চলে গেল। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
মৃতের আত্মীয় ও সহকর্মী মোকসেদ মিঞার অভিযোগ, “শ্রমিকদের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে কাজ করানো হয়।তারই ফল এই মৃত্যু। আমরা চাই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হোক এবং শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবেশে কাজের ব্যবস্থা করা হোক।”
যদিও অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রকল্পের ঠিকাদার গঙ্গাধর রায় বলেন, “আমরা মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকব এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”
ঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
এমন মৃত্যুর ঘটনায় ইজামুল হকের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এলাকাজুড়েও শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।