বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধু ,বংশীহারী থানার বড়াইল এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার পুকুর থেকে, খুনের অভিযোগ পরিবারের, জলে ডোবার তথ্য অভিযুক্ত বন্ধুর, তদন্তে পুলিশ
শীতল চক্রবর্তী বুনিয়াদপুর ১৬ জুলাই দিনাজপুর।প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের অপর এক বন্ধুর রেল লাইনের কালভার্টের মধ্যে থেকে জলে ডোবা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের অভিযোগ তোলা হলো হল মৃতের পরিবারের তরফে।ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার থিঙ্গুর এলাকায়।মৃতের পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ,পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে তার এক পরিচিত বন্ধু ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহ রেল লাইনের পাশ থাকা কালভার্টের নিচে খুন করে ফেলে দিয়েছে।এলাকাবাসীরা মৃতদেহ ভাসতে দেখে বৃহস্পতিবার দুপুরে বংশীহারী থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।যদিও তার বন্ধু অভিযুক্ত দাবি করেছে তারা দুজন স্নান করতে গিয়ে জলে নেমেছিল। আমি সেই সময় বাড়ি চলে আসি।বন্ধু আরমানও বাড়ি চলে গেছে। তাই কাউকে বিষয়টি সে কিছু জানায়নি।তবে প্রশ্ন উঠেছে যদি জলেই নামে তার বন্ধু তাহলে সেই বিষয়টি সে কেন নিখোঁজ হওয়া বন্ধুর পরিবারের লোকজনদের না জানিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত নেমেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরের নাম আরমান আলী,বয়স ১৭ বছর।তার বাড়ি বংশীহারী থানার বুনিয়াদপুর শহরের বড়াইল এলাকায়।সে এবছর বংশীহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।মৃতের পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ,গত ১৪ই জুলাই মঙ্গলবার দুপুর বংশীহারী থানার পীরতলা হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা আশু বিশ্বাসের ছেলে আদিত্য বিশ্বাস নামে এক তার বন্ধু বাড়ি থেকে আরমানকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা দুজন একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়াশোনা করে। এরপরেই হঠাৎ এই আরমান দুদিন থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হবার পরে নিখোঁজের পরিবারের লোকজনদের আদিত্য বিশ্বাস জানাই যে, আমরা দুজন একসাথেই এসেছিলাম আমাকে বাড়িতে রেখে দিয়ে আরমান চলে গেছে। তবে তারা দুজন কালভার্টে স্নান করতে গিয়েছিল বলে আদিত্য জানিয়েছে।সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে আদিত্য আরমানকে সেদিন দুপুরে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে তার বাড়ি থেকে।
এদিন আদিত্য অবশ্য প্রকাশ্যে স্বীকারও করে নিয়েছে যে, কালভাটের নিচে দুজনই একসঙ্গে স্নান করতে দিয়েছিল। আদিত্য ফিরে আসে তাড়াতাড়ি বাড়িতে, কিন্তু আরমান সেখানে থেকে যায় বলে দাবি করে আদিত্য। মৃত আরমানের পরিবারের আত্মীয় সুরজ রহমান ও মোহাম্মদ আহতাব আলী অভিযোগ করে বলেন,”ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করে রেল লাইনের কালভার্টের নিচে দেহটি আদিত্য লোপাট করে দেয়।আর আমাদের মিথ্যা কথা বলেছেন সে। চাপ দেবার পরে সেই আমার ছেলেকে বের করে দিয়েছে কোথায় গিয়েছিল তারা।থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবো,দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”
যদিও আদিত্য বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে ওঠাও অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়ে বলেন,”আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোন ভাবে জড়িত না।পুলিশ তদন্ত করলেই সব প্রমাণ হবে।” মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন,”পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।” এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এসেছে এলাকাজুড়ে।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধু ,বংশীহারী থানার বড়াইল এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ...























