ছেলেধরা গুজবে রণক্ষেত্র বালুরঘাট! মালদার চার কিশোরের উপর উন্মত্ত জনতার তান্ডব, কান ফাটল কিশোরের
বালুরঘাট, ১০ মে — ছেলেধরা সন্দেহে চার কিশোরকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি। ভুটভুটির হ্যান্ডেল দিয়ে মারধরের অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের কাছ থেকেই ওই কিশোরদের উদ্ধার করল পুলিশ। রবিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের আসইর এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার সুজাপুরের চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই চার কিশোর কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বোল্লা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। দিনভর ভুটভুটি নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল ও ভাঙাচোরা জিনিসপত্র কুড়িয়ে বিক্রি করাই তাদের পেশা। রবিবার বিকেলে তারা আসইর গ্রামে পৌঁছয়। অভিযোগ, সেখানেই একটি বাড়ির বাইরে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের ভাঙা হাঁড়ি বস্তায় ভরার সময় কয়েকজন গ্রামবাসীর নজরে পড়ে যায় তারা। এরপরই চুরির অভিযোগ তুলে শুরু হয় বচসা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েকজন যুবক প্রথমে ওই কিশোরদের ধরে মারধর শুরু করে। অভিযোগ, ভুটভুটির হ্যান্ডেল দিয়েও চলে বেধড়ক পেটানো। মারধরে এক কিশোরের কান ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা। সেই সময়ই ছেলেধরা সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ, “ছেলেধরা” বলে চিৎকার শুনে আশপাশের গ্রামের লোকজনও তাড়া করে চার কিশোরকে পাকড়াও করে মারধর শুরু করে।
রাহুল মার্ডি ও সমীর কিস্কু নামে দুই স্থানীয় যুবক জানান, মাঠে ফুটবল খেলার সময় তাঁরা “ছেলেধরা” বলে চিৎকার শুনতে পান। পরে কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলে। তাদের দাবি, ওই কিশোরদের কাছ থেকে ব্লেড-সহ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে।
তবে নয়ন মল্লিক নামে এক স্থানীয় যুবকের দাবি, এলাকায় শিশু চুরির কোনও ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র গুজব ছড়িয়েই ওই চার কিশোরকে মারধর করা হয়েছে।
আক্রান্ত কিশোরদের বক্তব্য, তারা ভাঙারি কুড়োনোর কাজ করে। একটি ভাঙা হাঁড়ি বস্তায় ভরার সময় কয়েকজন তাদের চোর সন্দেহে ধরে মারধর করে। পরে ছেলেধরা অপবাদ দিয়ে আরও লোক জড়ো করে বেধড়ক পেটানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বালুরঘাট থানার পুলিশ। পরে গ্রামবাসীরাই চার কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বালুরঘাট সদর ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার জনকে উদ্ধার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।





















