টিনের চালের নীচেই স্বপ্নের ক্লাসরুম! বন্ধু স্যারের পাঠশালায় বদলে যাচ্ছে আদিবাসী গ্রামের ভবিষ্যৎ

0
51

টিনের চালের নীচেই স্বপ্নের ক্লাসরুম! বন্ধু স্যারের পাঠশালায় বদলে যাচ্ছে আদিবাসী গ্রামের ভবিষ্যৎ

মাটিতে নুয়ে পড়া জরাজীর্ণ টিনের ঘরের বারান্দা। নেই আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, নেই বেঞ্চ-ডেস্ক কিংবা স্মার্ট বোর্ড। তবুও প্রতিদিন সেখানে জন্ম নিচ্ছে একের পর এক স্বপ্ন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিগরা আদিবাসী গ্রামে এমনই এক ব্যতিক্রমী পাঠশালার জন্ম দিয়েছে বালুরঘাট মহাবিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক দুলাল বর্মন। তবে গ্রামবাসীর কাছে তিনি অধ্যাপক নন, সকলের প্রিয় বন্ধু স্যার।

বালুরঘাট শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিগরা গ্রামটি। একশো শতাংশ আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে শতাধিক পরিবারের বাস। অধিকাংশই দিনভর কৃষিকাজে ব্যস্ত। সংসারের নিত্য লড়াইয়ে সন্তানদের পড়াশোনার দিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার সুযোগ বা সামর্থ্য দুটোরই অভাব। গ্রামের অনেকের কাছেই স্কুলের বইয়ের চেয়ে দু’বেলা খাবারের চিন্তাই বেশি জরুরি। সেই বাস্তবতাই কয়েক বছর আগে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল দুলাল বর্মনকে।
তারপর থেকেই নিজের ব্যস্ততার ফাঁকে সপ্তাহে দু’-তিন দিন নিয়ম করে গ্রামে ছুটে আসেন তিনি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে চুনরা বেসরার বাড়ির বারান্দাতেই শুরু করেন এক বিনামূল্যের পাঠশালা। এখন সেই পাঠশালায় নিয়মিত পড়তে আসে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রছাত্রী। বইয়ের পাঠের পাশাপাশি তারা শিখছে স্বপ্ন দেখতে, আত্মবিশ্বাসী হতে এবং শিক্ষার শক্তিতে বিশ্বাস রাখতে।
দুলাল বর্মনের কথায়, জামাকাপড়, খাবার অনেকেই দিয়ে যান। কিন্তু শিক্ষার কথা খুব কম মানুষ ভাবেন। এই শিশুদের যদি শিক্ষার সুযোগ না দেওয়া যায়, তবে দারিদ্র্যের চক্র কোনও দিনই ভাঙবে না। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এই ছোট্ট চেষ্টা।

অভিভাবক সাবিনা টুডু বলেন, আমাদের টিউশন পড়ানোর সামর্থ্য নেই। বন্ধু স্যার কোনও টাকা নেন না। প্রয়োজনে তাদের খাতা, কলমও কিনে দেন। নিজের সময় দিয়ে আমাদের সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছেন।
পড়ুয়া রাজীব বেসরা জানায়, স্কুলে যেগুলো বুঝতে পারি না, বন্ধু স্যার ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দেন। এখন পড়াশোনা করতে ভালো লাগে।
ইট-কাঠের স্কুলঘর নয়, টিনের চালের নিচে বসেই প্রতিদিন নতুন স্বপ্ন বুনছে ডিগরার শিশুরা। আর সেই স্বপ্নের কারিগর হয়ে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে চলেছেন বন্ধু স্যার—যিনি বিশ্বাস করেন, দান নয়, শিক্ষাই পারে একটি সমাজের ভাগ্য বদলে দিতে।