দুই শতকের ইতিহাস আজ ধ্বংসস্তূপে! জৌলুস হারাচ্ছে হিলির বিনশিরার ঐতিহ্যবাহী রথ, হারিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির গৌরব
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৫ জুলাই —- ইতিহাস আজও হাতছানি দেয়, কিন্তু সময়ের নির্মম আঘাতে ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি ব্লকের তিওড়ের বিনশিরা গ্রামের প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও জমিদারবাড়ির গৌরব। একসময় যে রথের মেলা জেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল, আজ সেই উৎসবের জৌলুস অনেকটাই ফিকে। তবুও ঐতিহ্যের টানে প্রতিবছর জেলার নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে রথের দড়ি টানতে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী তৎকালীন জমিদার সর্ব্বেশ্বর লাহার মনস্কামনা পূরণ হওয়ায় পুরী থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সূত্রেই শুরু হয় বিনশিরার রথযাত্রা। জমিদারি আমলে পুরীর রীতিনীতি অনুসারে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের স্থান পবিত্র করে উৎসবের সূচনা হতো। ১৬ চাকার বিশাল রথ, রাজকীয় আয়োজন এবং আড়ম্বরপূর্ণ মেলা ছিল এই উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
সময়ের স্রোতে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, হারিয়েছে সেই ঐশ্বর্যও। এখন ১৬ চাকার পরিবর্তে ৬ চাকার রথেই পালিত হয় উৎসব। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু রথ, ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ি, জঙ্গলে ঢেকে যাওয়া হাতি বাঁধার স্থান, রানিদের স্নানের ঘাট-সহ বহু প্রাচীন নিদর্শন আজও অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিন দিন আগে থেকেই শুরু হয় রথের প্রস্তুতি। বর্তমানে জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন।
জমিদার পরিবারের সদস্য জগদীশ দাস জানিয়েছেন, একসময় বিপুল সম্পত্তির আয়েই এই উৎসবের আভিজাত্য বজায় থাকত। জমি ভেস্ট হয়ে যাওয়ার পর সেই সামর্থ্য আর নেই। ফলে মেলার পরিসর যেমন ছোট হয়েছে, তেমনই রথের আকারও কমেছে। তাঁর আক্ষেপ, সরকারি উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক রথযাত্রা ও জমিদারবাড়ির সংরক্ষণ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
ইতিহাস, বিশ্বাস ও লোকঐতিহ্যের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকা বিনশিরার রথ আজও মানুষের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তবে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই দুই শতকের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।























