পুলিশের তাড়া খেয়ে ফেনসিডিল বোঝাই মারুতি ভ্যান বাড়িতে ঢুকে দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল পরিবার

0
100

পুলিশের তাড়া খেয়ে ফেনসিডিল বোঝাই মারুতি ভ্যান বাড়িতে ঢুকে দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল পরিবার,
শীতল চক্রবর্তী ১৪ই জুলাই বালুরঘাট দক্ষিন দিনাজপুর। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফেনসিডিল বোঝাই একটি মারুতি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ঢুকে পড়ল এক ব্যক্তির বাড়িতে। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পি ডব্লিউ ডি পাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বাড়ির সদস্যরা। দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বুনিয়াদপুরের দিক থেকে একটি মারুতি ভ্যানে কয়েক কার্টন ফেনসিডিল নিয়ে গঙ্গারামপুর শহরের দিকে আসছিল পাচারকারীরা। কালীতলা এলাকায় পৌঁছতেই গঙ্গারামপুর থানার সাদা পোশাকের পুলিশ সন্দেহজনক গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পুলিশের চোখ এড়াতে গাড়িচালক দ্রুতগতিতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের PWD পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি সরু গলিতে ঢুকে পড়ে। কিন্তু গলির শেষপ্রান্তে আর রাস্তা না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটি সজোরে একটি বাড়িতে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনার সুযোগ নিয়ে গাড়িচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে মারুতি ভ্যানটি আটক করে। গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্বার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পলাতক চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।পাশাপাশি এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চন্দ্র সরকার ও জয়দেব পাল গোপাল দাসেরা অভিযোগ করে বলেন, “গঙ্গারামপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরেই ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক পাচারের কারবার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বহু পরিবার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান হলেও এই চক্র পুরোপুরি ভাঙা যাচ্ছে না। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অল্পের জন্য একটি পরিবার রক্ষা পেল, কিন্তু ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, মাদক পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বিস্তার লাভ করবে।
এর আগেও গঙ্গারামপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হালদারপাড়ার বাসিন্দা মৃদুল ঘোষ সহ বেশ ৪জন ফেনসিডিল পাচারের অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পরও মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ফের এই ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একের পর এক অভিযানে পাচারকারীরা ধরা পড়লেও মাদক চক্রের শিকড় এখনও সক্রিয় রয়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই ঘটনার পর পুলিশ পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে গোটা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে তদন্ত আরও জোরদার করেছে।