জমি বিক্রি না করেও মিউটেশনের নোটিশ, গঙ্গারামপুরে বিএল অ্যান্ড এলআরও অফিসে লিখিত অভিযোগ

0
35

জমি বিক্রি না করেও মিউটেশনের নোটিশ, গঙ্গারামপুরে বিএল অ্যান্ড এলআরও অফিসে লিখিত অভিযোগ
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ৩০জুন।জমি বিক্রি বা হস্তান্তর না করেও মিউটেশনের নোটিশ পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের বেলবাড়ি এলাকায়। ঘটনায় মঙ্গলবার গঙ্গারামপুরের বিএল অ্যান্ড এলআরও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জমির মালিক আনোয়ারা সরকারের ছেলে আরিফ সরকার। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলবাড়ি মৌজার জে.এল. নং ৮১, দাগ নং ৪৫০৮, খতিয়ান নং ৪৯২৪-এর ০.২০০০ একর জমি নিয়ে এমএন/২০২৬/১৭০৫/১২২২১ নম্বর মিউটেশন মামলায় গত ২৮ মে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আগামী ২ জুলাই দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে শুনানির জন্য জমির মালিক আনোয়ারা সরকারের নামে নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশে আবেদনকারী হিসেবে চন্দনা রাজবংশীর নাম রয়েছে।
আরিফ সরকারের অভিযোগ, তাঁর মা আনোয়ারা সরকার ওই জমি কাউকে বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি। তা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য এক ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে মিউটেশনের প্রক্রিয়া শুরু হল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আরিফ সরকার বলেন,“পিএম কিষান প্রকল্পের জন্য মায়ের জমির নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখি জমির মিউটেশন হয়ে রয়েছে।অথচ আমার মা কাউকে জমি বিক্রি করেননি। সোমবার অভিযোগ জানাতে গেলে অফিসে অভিযোগপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হয় এবং আমাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করা হয়। আমি ভারতের নাগরিক। আজও অভিযোগ জানাতে গিয়ে অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে।জমি বিক্রি না করেও কীভাবে মিউটেশন হয়, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এবিষয়ে গঙ্গারামপুরের বিএল অ্যান্ড এলআরও সুদীপ চক্রবর্তী বলেন,“জমির প্রকৃত মালিক যদি জমি বিক্রি না করে থাকেন,তাহলে তদন্ত করে তাঁর রেকর্ড যথাযথভাবে সংশোধন করা হবে। বর্তমানে অনলাইন মিউটেশন পদ্ধতিতে অনেক সময় এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।