“আমি বাঁচতে চাই”—নন্দনপুরে অসহায় যুবকের আর্তনাদ,সাহায্যের আবেদন পরিবারের

0
93

শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট, ১এপ্রিল, দক্ষিণ দিনাজপুর:
“আমি বাঁচতে চাই।আমাকে বাঁচান”—এই হৃদয়বিদারক আর্তনাদই যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত নন্দনপুর গ্রামের প্রতিটি কোণে। গঙ্গারামপুর শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ছোট্ট এই গ্রাম। সেখানেই বাস যুগল বিশ্বাসের। স্ত্রী সুমিত্রা বিশ্বাস ও দুই ছেলে—অভিজিৎ ও ইন্দ্রজিৎকে নিয়ে ছিল তাদের ছোট্ট সুখের সংসার। পেশায় দিনমজুর যুগল, আর বড় ছেলে অভিজিৎ একটি ওষুধের দোকানে কাজ করে বাবাকে সহায়তা করতেন।
কিন্তু ২০২১ সালেই ভেঙে পড়ে এই পরিবারে সুখের ভিত্তি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিজিৎ। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে—তার দুই কিডনিই বিকল। ছেলেকে বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি করে যুগল বিশ্বাস ছুটে যান বেঙ্গালুরুতে। কিন্তু বিপুল খরচের চাপে মাঝপথেই ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা চললেও গত পাঁচ বছরে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
তবুও লড়াই থামাননি বাবা। দিনরাত পরিশ্রম করে ডায়ালিসিসের খরচ জোগাড় করছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ,প্রায় এক মাস আগে একটি টোটো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে হাত ভেঙে যায় যুগলের। ফলে রোজগার বন্ধ। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই।
অর্থাভাবে এখন প্রায় না খেয়েই দিন কাটছে পরিবারের। দীর্ঘ অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়েছেন মা সুমিত্রা দেবী, চলার শক্তিও প্রায় হারিয়েছেন।
অন্যদিকে ছোট ছেলে ইন্দ্রজিৎ বিএ পাশ করে বিএড করলেও এখনও কাজ জোটেনি। দাদার ও বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের দুশ্চিন্তায় সেও মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
নন্দনপুরে যুগল বিশ্বাসের বাড়িতে গেলে চোখে পড়বে পাটকাঠির ভাঙা বেড়া, যেটি উইপোকার দখলে প্রায় নষ্ট। সেই জরাজীর্ণ ঘরের ফাঁক গলেই ভেসে আসে ২৭ বছরের অভিজিতের কাতর আর্তি,“আমি বাঁচতে চাই… আমাকে বাঁচান…”
নিজেদের অভাব-অনটনের জন্য কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই যুগল বা সুমিত্রা দেবীর। তাদের একমাত্র চাওয়া ছেলেকে বাঁচানো।
ভাঙা টিনের চালার নিচে দাঁড়িয়ে তাঁরা সরকারের পাশাপাশি সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি অভিজিৎকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তাহলে যোগাযোগ করুন 6294518883
মানবিকতার এই কঠিন পরীক্ষায় সমাজ কি এগিয়ে আসবে?এখন সেই আশাতেই দিন গুনছে নন্দনপুরের এই অসহায় পরিবার।