স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ায় হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, পুলিশি তৎপরতায় রক্ষা পেল যুবকের জীবন

0
39

স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ায় হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, পুলিশি তৎপরতায় রক্ষা পেল যুবকের জীবন
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট, ৩১ মে:-দাম্পত্য কলহের জেরে মানসিক অবসাদে ভুগে বাম হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বিপদমুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত গঙ্গারামপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বুরুজপাড়া এলাকার। আহত যুবকের নাম পমেন রায় (২৫)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ডোনা রবিদাস বর্মনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ চলছিল। সেই অশান্তির জেরে কয়েকদিন আগে স্ত্রী বাবার বাড়ি কুমারগঞ্জে চলে যান। এরপরও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে চলতে থাকা বিবাদ এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শনিবার নিজের বাড়িতেই ব্লেড দিয়ে বাম হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পমেন নামে ওই যুবক। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন।খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার এসআই তথা টাউনবাবু রোহিত ভগতের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেই সময় বাড়িতে আহত যুবকের বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ দ্রুত আহত যুবককে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন,”সময়মতো হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। আরও কিছুটা দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারত। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।”
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ডোনা রবিদাস বর্মনের সঙ্গে পমেনের বিয়ে হয়। কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই কারণে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। এরই মধ্যে স্ত্রীর বাবার বাড়ি চলে যাওয়া এবং পারিবারিক সমস্যার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যুবক। সূত্রে জানা গেছে ওই গৃহবধুর সঙ্গে যৌনক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়। যে ঘটনাটি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বহুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় রাজমিস্ত্রি এশার সঙ্গে যুক্ত পমেন বলেন,”স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের কারণেই এমন কাজ করেছি।তখন মনে হচ্ছিল বেঁচে থেকে আর লাভ নেই।”
পমেনের মা বলেন,”ওদের মধ্যে যে অশান্তি চলছিল, সেটা বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু ছেলে যে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা কখনও ভাবিনি। পুলিশ দ্রুত সাহায্য না করলে বড় বিপদ হয়ে যেত। পুলিশের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দাম্পত্য কলহ ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।