১৭৫ টাকার লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি গ্রিল মিস্ত্রি সঞ্জয় সরকার
শীতল চক্রবর্তী,বুনিয়াদপুর ৩১ মে দক্ষিণ দিনাজপুর :মাত্র ১৭৫ টাকার লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেলেন এক গ্রিল মিস্ত্রি।ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী ব্লকের ৯নম্বর গাঙ্গুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজে কানুর এলাকার।
জানা গেছে, শনিবার রাতে পাঁচ সিরিজের একটি ডিয়ার লটারির টিকিট ১৭৫ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার। পেশায় তিনি একজন গ্রিল মিস্ত্রি।দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের জীবনের মাঝেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তাঁর। লটারির ফল প্রকাশের পর জানা যায়, তিনি কোটি টাকার পুরস্কার জিতেছেন।
সঞ্জয় সরকার দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে গ্রিল, শাটার, ভটভুটি ট্রলি-সহ বিভিন্ন লোহার কাজের সঙ্গে যুক্ত। অল্প বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।প্রথমে বুনিয়াদপুর কলেজ মোড় এলাকার দুলাল শিকদারের লেদ মেশিনের দোকানে প্রায় দু’বছর কাজ শিখেছিলেন। পরে পাকুয়া এলাকার রামকৃষ্ণ হার্ডওয়্যারের অধীনে প্রায় তিন বছর কাজ করার পর নিজে দক্ষ কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।এরপর নিজের এলাকার করখা গ্রামে একটি ছোট গ্যারেজ ও গ্রিল তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। গত প্রায় ১৪ বছর ধরে সেই ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয় সরকার প্রায় ২৪ বছর বয়সে কুশমন্ডি থানার কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা সুদাম সরকারের মেয়ে পূজা সরকারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে, একজনের বয়স ৬ বছর এবং অপরজনের বয়স আড়াই বছর।
পরিবারে রয়েছেন বাবা গৌর সরকার, মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান।গৌর সরকার স্থানীয় হাটে কাপড়ের ব্যবসা করেন। সীমিত আয়ের মধ্যেই এতদিন সংসার চালিয়ে আসছিল পরিবারটি।
লটারিতে কোটি টাকার পুরস্কার পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা ভিড় জমাতে শুরু করেন সঞ্জয়ের বাড়িতে।
লটারিতে জেতার পর সঞ্জয় সরকার বলেন,“জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এবার হয়তো সুখের মুখ দেখতে পাব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়েছে, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
সঞ্জয়ের স্ত্রী পূজা সরকার বলেন,“এতদিন অনেক অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটিয়েছি। এখন একটা ভালো বাড়ি তৈরি করতে পারব। ছেলে-মেয়েদের ভালোভাবে মানুষ করার স্বপ্ন পূরণ হবে।”
প্রতিবেশী রতন সরকার ও লক্ষণ পাল বলেন,“সঞ্জয় খুবই পরিশ্রমী মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে সংসার চালিয়েছে।ভাগ্য ওর প্রতি সুপ্রসন্ন হয়েছে। আমরা সবাই খুব খুশি।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লটারি বিজয়ী সঞ্জয় সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, এক পরিশ্রমী শ্রমিকের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের নয়, সমগ্র এলাকার মানুষের কাছেই আনন্দের খবর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভাগ্যের সহায়তায় সঞ্জয় সরকারের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর ১৭৫ টাকার লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি গ্রিল মিস্ত্রি সঞ্জয় সরকার
























