সরকারি দপ্তরে বসেই ‘কাটমানি কালেকশন’! বালুরঘাট এগ্রিমেক দফতরের ভাইরাল ভিডিয়োয় চাঞ্চল্য

0
181

সরকারি দপ্তরে বসেই ‘কাটমানি কালেকশন’! বালুরঘাট এগ্রিমেক দফতরের ভাইরাল ভিডিয়োয় চাঞ্চল্য

বালুরঘাট, ২৫ মে —– দক্ষিণ দিনাজপুরে ফের কাটমানি বিতর্ক। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বালুরঘাটের এগ্রিমেক মেকানিক্যাল দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পার্থ দে। সরকারি অফিসের ভিতরে বসেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে শতাংশ হারে কাটমানি দাবি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই জেলায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
যদিও ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি স্টার সংবাদ। তবে ভিডিওতে অভিযুক্ত আধিকারিককে অফিসের ভিতরে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। অভিযোগ, কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ— যেমন পাইপ সরবরাহ, ইলেকট্রিক মোটর বাইন্ডিং, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া— এসব প্রকল্পে কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে শুরুতেই ৮ শতাংশ এবং বিল মেটানোর সময় আরও ৪ শতাংশ কাটমানি দাবি করা হত।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, দপ্তরের কোনও সরকারি কর্মী নন এমন এক যুবককে অফিসে বসিয়েই টাকা তোলার কাজ চালানো হত। যে ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পার্থ দে। তাঁর দাবি, কাটমানি বা ভাইরাল ভিডিও— কোনও বিষয় সম্পর্কেই তিনি কিছু জানেন না।
এ দিকে ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়। তাঁর বক্তব্য, “ঠিকাদারদের এফআইআর করা উচিত। অভিযোগ দায়ের হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, “কিছু দপ্তরে এ ধরনের ঘটনা চলেই। অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিডিও সামনে এলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়।”
আরএসপি নেতা অর্নব চৌধুরী বলেন, “ঘটনা সত্যি হলে আইন মেনেই পদক্ষেপ করা উচিত।”

ভাইরাল সেই ভিডিয়ো ঘিরে এখন একটাই প্রশ্ন— সরকারি দফতরের অন্দরেই কি চলছিল ‘শতাংশের সিন্ডিকেট’? উত্তর খুঁজছে দক্ষিণ দিনাজপুর।