রাস্তা সারাই না জোড়াতালি ? পুজোর মুখে ১৮ লক্ষের কাজ নিয়ে প্রশ্ন, কুরমাইল-চিঙ্গিশপুরে ক্ষোভ, তদন্তের আশ্বাস বিধায়কের

0
25

রাস্তা সারাই না জোড়াতালি ? পুজোর মুখে ১৮ লক্ষের কাজ নিয়ে প্রশ্ন, কুরমাইল-চিঙ্গিশপুরে ক্ষোভ, তদন্তের আশ্বাস বিধায়কের

বালুরঘাট, ৩০ সেপ্টেম্বর—- পুজোর মুখে রাস্তা সারাইয়ের নামে কি শুধুই দায়সারা কাজ? ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা ঘোচাতে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা খরচের উদ্যোগ। অথচ সেই রাস্তার হাতে গোনা কয়েকটি জায়গায় সামান্য পিচের প্রলেপ দিয়েই কাজ গুটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে। আর তা নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন বালুরঘাট ব্লকের কুরমাইল থেকে চিঙ্গিশপুর এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে কুরমাইল-চিঙ্গিশপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এলাকায় রেলের কাজ চলার কারণে রাস্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। অথচ এই রাস্তার উপরেই নির্ভরশীল বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। স্থানীয় কামারপাড়া হাটে যাতায়াত থেকে শুরু করে নিত্যদিনের নানা প্রয়োজনে এই রাস্তা ব্যবহার করেন বাসিন্দারা।

পুজোর আগে যে বেহাল রাস্তা মেরামতির উদ্যোগ নেয় পূর্ত দফতর। দফতর সূত্রে খবর, প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেরামতির কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ শুরু হতেই উঠেছে প্রশ্ন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার অধিকাংশ অংশ আগের মতোই বেহাল পড়ে রয়েছে। মাত্র কয়েকটি জায়গায় কোনও রকমে পিচের আস্তরণ দিয়েই কাজ শেষ করে চলে গিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা।

বিষ্ণুপদ ঘোষ ও দিলীপ কুমার মাহাত বলেন, কয়েকটি জায়গায় কোনও রকমে পিচ দিয়ে চলে গিয়েছে। প্রতিবাদ করায় বলা হয়েছে, পুজোর পরে নতুন রাস্তা হবে। তাঁদের প্রশ্ন, পুজোর পরে যদি নতুন রাস্তা তৈরিই হবে, তা হলে তার আগে সরকারি অর্থ খরচ করে এ ভাবে মেরামতির প্রয়োজন কেন?

ঘটনাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি পূর্ত দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার স্বর্ণায়ু সাহা। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা মেরামতির সময় তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ জানাননি।

বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পদক্ষেপও করা হবে।

পুজোর মুখে রাস্তা মেরামতির এই কাজ ঘিরে তাই এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার বরাদ্দে যদি রাস্তার চেহারাই না বদলায়, তবে মেরামতির কাজের মান যাচাই করবে কে?