মালদায় বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রতিবাদ করায় শুট আউট মৃত এক ও গণপিটুনীতে মৃত এক আহত চার

0
47

হোলির রাতে বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রতিবাদ করায় শুট আউট।মৃত দুই।আহত তিন।গুরুত্বর আহত একজন মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি তিনজন মানিকচক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক থানার মথুরাপুর কাহাড় পাড়া এলাকায়। গ্রেফতার তিনজন।ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানুতর।
জানা গিয়েছে,মৃতের নাম সমর রজক (১৪)। গণপিটুনীতে মৃত অভিযুক্তর বাবা সমির দাসগুপ্ত(৬২)। গুলিবিদ্ধ ১০ বছরের বালক সহ তিন জন। অভিযুক্ত নাবালক। এলাকার রেশন ডিলার মৃত সমির দাসগুপ্তের নাবালক ছেলে হোলির দিন বেপরোয়া বাইক চালাছিল। ঘটনা দেখতে পেয়ে মৃত সমর রজকের বাবা প্রতিবাদ করে এই নিয়ে শুরু হয় বাকবিতন্ডা। এরপরই সমির দাসগুপ্তের বাড়িতে এসে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। এরপরই পাল্টা সমিরের ছেলে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। ঘটনায় সমর রজক সহ চারজন আহত হয়।দ্রুত স্থানীয় গ্রামবাসীরা তরিঘরি উদ্ধার করে মানিকচক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সমর রজককে মৃত ঘোষনা করে। বাকি চারজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করে। এরপরই গ্রামবাসীরা উত্যেজিত হয়ে পরে।শুরু হয় ডিলারের বাড়িতে বিক্ষোভ।ঘটনায় ডিলার বের হতেই গণধোলাই দিতে শুরু করে। ঘটনায় মৃত্যু হয় সমির দাসগুপ্তর।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মানিকচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপরই পরিহ্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। ঘটনার তদন্তে নেমে মানিকচক থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় বলেন,বেপরেয়া বাইক চালানো নিয়ে বিবাদের জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।উদ্ধার করা হয়েছ আগ্নেয়াস্ত্রটি।দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশী শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ মালদা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাস বলেন, মানিকচক যে ঘটনাটি ঘটেছে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। দোল উৎসবের নামে একাংশ মানুষ বন্দুক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নেমে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলির আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।বাকি একজনের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে।রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে।রাজ্যের প্রতিটা বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন কি করছে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা কি। কার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে আর কার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নেই তা দেখার দায়িত্ব পুলিশের। তাহলে পুলিশের নেটওয়ার্ক কি কাজ করছে। তারা তোলাবাজি আর কার কাছ থেকে টাকা পাওয়া যাবে সেই সব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই যে গুলি চললো তার দায় এবং দায়িত্ব সম্পূর্ণ পুলিশ প্রশাসনের। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
তৃণমূলের মুখপাত্র আশীষ কুন্ডু বলেন, বেপরোয়া বাইক দুর্ঘটনার ফলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।স্থানীয় থানা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিজেপি কি বলছে তাতে যায় আসে না। বিজেপি শাসিত রাজ্যে কোন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নেই।এই বাংলায় যারা অপরাধী তারা সাজাপ্রাপ্ত হয়।এই রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত আছে। আর সেই কারণে বাংলাকে দেখে হিংসা করে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মানুষ।