সংসারের ব্যস্ততা মিটিয়েই মাটির প্রদীপ গড়ার লড়াই!

0
34

**সংসারের ব্যস্ততা মিটিয়েই মাটির প্রদীপ গড়ার লড়াই!দীপাবলির আগে পালপাড়ায় মহিলাদের দম ফেলার ফুরসত নেই,ঐতিহ্যের আলো জ্বালিয়ে রাখতে দিনভর পরিশ্রম*

_দীপাবলির আলোয় ঘর সাজানোর প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।আর সেই আলোর অন্যতম উপকরণ মাটির প্রদীপ তৈরি করতে এখন চরম ব্যস্ততা মাটিগাড়ার পালপাড়ায়।তবে এই ব্যস্ততার নেপথ্যে রয়েছে এক অন্য লড়াই।সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ সামলানো,পরিবারের জন্য রান্না করা,তারপরই শুরু হয় প্রদীপ তৈরির কাজ।কারও হাতে মাটি, কেউ প্রদীপের আকার দিচ্ছেন,আবার কেউ তৈরি প্রদীপ রোদে শুকিয়ে বাজারের জন্য প্রস্তুত করছেন।এভাবেই সংসার ও পেশার দ্বৈত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে উৎসবের আগে দিনভর পরিশ্রম করছেন পালপাড়ার মহিলারা।বর্তমানে কৃত্রিম আলোর নানা বাহারি সম্ভার বাজারে থাকলেও মাটির প্রদীপের চাহিদা এখনও যথেষ্ট।বিশেষ করে দীপাবলি ও কালীপুজোর সময় এই চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।সেই চাহিদা পূরণ করতেই পালপাড়ার প্রতিটি পরিবারে চলছে জোরকদমে কাজ।পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি মহিলারাও উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।এখানকার তৈরি প্রদীপ শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই।দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা পেরিয়ে মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের মতো ভিনরাজ্যেও পৌঁছে যাচ্ছে পালপাড়ার মাটির প্রদীপ।ফলে উৎসবের এই মরশুমে কাজের চাপও অনেকটাই বেড়েছে।ভারতী পালের কাছে এই সময়টা কার্যত বিশ্রামহীন।তাঁর কথায়, সংসারের কাজ শেষ করে প্রদীপ তৈরিতে বসতে হয়।সকাল থেকে কাজ শুরু হলে কখন যে দুপুর গড়িয়ে যায়,অনেক সময় খেয়ালও থাকে না।পরিবারের সকলেই মিলে কাজ করেন,কারণ উৎসবের আগে যত বেশি প্রদীপ তৈরি করা সম্ভব,ততই ভালো।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করাটাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।সংসারের দায়িত্ব সামলেও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয় প্রতিদিন।মায়া পালও জানালেন,এই শিল্প তাঁদের পরিবারের বহু প্রজন্মের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।ছোট থেকেই পরিবারের সদস্যদের মাটির কাজ করতে দেখে বড় হয়েছেন।তাই সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি এই পেশাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না তাঁরা।তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উৎপাদনের খরচ।বর্তমানে এক গাড়ি মাটির জন্য প্রায় ৫থেকে ৬হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভের অঙ্কে প্রভাব পড়ছে।এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা এবং কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকির আবেদন জানিয়েছেন তিনি।তাঁদের মতে,সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার উপকৃত হবে।উৎসবের চাকচিক্যের আড়ালে পালপাড়ার এই মহিলাদের পরিশ্রম হয়তো অনেকের চোখেই পড়ে না।অথচ তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে সেই প্রদীপ,যা দীপাবলির রাতে অসংখ্য বাড়িতে আলো ছড়াবে।সংসারের দায়িত্ব,বাড়তি কাজের চাপ এবং আর্থিক প্রতিকূলতা-সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেও নিজেদের পারিবারিক পেশাকে আঁকড়ে রয়েছেন তাঁরা।তাঁদের কাছে মাটির প্রদীপ শুধুমাত্র একটি পণ্য নয়,এটি বংশপরম্পরায় বয়ে চলা পরিচয় ও ঐতিহ্য।সেই ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখতেই দীপাবলির আগে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন মাটিগাড়ার পালপাড়ার মহিলারা।_দীপাবলির আগে পালপাড়ায় মহিলাদের দম ফেলার ফুরসত নেই,ঐতিহ্যের আলো জ্বালিয়ে রাখতে দিনভর পরিশ্রম*

_দীপাবলির আলোয় ঘর সাজানোর প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।আর সেই আলোর অন্যতম উপকরণ মাটির প্রদীপ তৈরি করতে এখন চরম ব্যস্ততা মাটিগাড়ার পালপাড়ায়।তবে এই ব্যস্ততার নেপথ্যে রয়েছে এক অন্য লড়াই।সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ সামলানো,পরিবারের জন্য রান্না করা,তারপরই শুরু হয় প্রদীপ তৈরির কাজ।কারও হাতে মাটি, কেউ প্রদীপের আকার দিচ্ছেন,আবার কেউ তৈরি প্রদীপ রোদে শুকিয়ে বাজারের জন্য প্রস্তুত করছেন।এভাবেই সংসার ও পেশার দ্বৈত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে উৎসবের আগে দিনভর পরিশ্রম করছেন পালপাড়ার মহিলারা।বর্তমানে কৃত্রিম আলোর নানা বাহারি সম্ভার বাজারে থাকলেও মাটির প্রদীপের চাহিদা এখনও যথেষ্ট।বিশেষ করে দীপাবলি ও কালীপুজোর সময় এই চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।সেই চাহিদা পূরণ করতেই পালপাড়ার প্রতিটি পরিবারে চলছে জোরকদমে কাজ।পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি মহিলারাও উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।এখানকার তৈরি প্রদীপ শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই।দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা পেরিয়ে মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের মতো ভিনরাজ্যেও পৌঁছে যাচ্ছে পালপাড়ার মাটির প্রদীপ।ফলে উৎসবের এই মরশুমে কাজের চাপও অনেকটাই বেড়েছে।ভারতী পালের কাছে এই সময়টা কার্যত বিশ্রামহীন।তাঁর কথায়, সংসারের কাজ শেষ করে প্রদীপ তৈরিতে বসতে হয়।সকাল থেকে কাজ শুরু হলে কখন যে দুপুর গড়িয়ে যায়,অনেক সময় খেয়ালও থাকে না।পরিবারের সকলেই মিলে কাজ করেন,কারণ উৎসবের আগে যত বেশি প্রদীপ তৈরি করা সম্ভব,ততই ভালো।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করাটাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।সংসারের দায়িত্ব সামলেও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয় প্রতিদিন।মায়া পালও জানালেন,এই শিল্প তাঁদের পরিবারের বহু প্রজন্মের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।ছোট থেকেই পরিবারের সদস্যদের মাটির কাজ করতে দেখে বড় হয়েছেন।তাই সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি এই পেশাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না তাঁরা।তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উৎপাদনের খরচ।বর্তমানে এক গাড়ি মাটির জন্য প্রায় ৫থেকে ৬হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভের অঙ্কে প্রভাব পড়ছে।এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা এবং কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকির আবেদন জানিয়েছেন তিনি।তাঁদের মতে,সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার উপকৃত হবে।উৎসবের চাকচিক্যের আড়ালে পালপাড়ার এই মহিলাদের পরিশ্রম হয়তো অনেকের চোখেই পড়ে না।অথচ তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে সেই প্রদীপ,যা দীপাবলির রাতে অসংখ্য বাড়িতে আলো ছড়াবে।সংসারের দায়িত্ব,বাড়তি কাজের চাপ এবং আর্থিক প্রতিকূলতা-সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেও নিজেদের পারিবারিক পেশাকে আঁকড়ে রয়েছেন তাঁরা।তাঁদের কাছে মাটির প্রদীপ শুধুমাত্র একটি পণ্য নয়,এটি বংশপরম্পরায় বয়ে চলা পরিচয় ও ঐতিহ্য।সেই ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখতেই দীপাবলির আগে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন মাটিগাড়ার পালপাড়ার মহিলারা।_