‘বুথ চলো’ কর্মসূচি থামিয়ে রোগীর জীবনরক্ষা তৃণমূল নেতার! রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বার্তা দিয়ে প্রশংসা কুড়লো মানস দাস

0
72

‘বুথ চলো’ কর্মসূচি থামিয়ে রোগীর জীবনরক্ষা তৃণমূল নেতার! রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বার্তা দিয়ে প্রশংসা কুড়লো মানস দাস

বালুরঘাট, ২০ ডিসেম্বর —– নির্বাচনের প্রস্তুতি, কর্মসূচির চাপ আর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও যে মানবিকতা হারিয়ে যায় না—তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হল দক্ষিণ দিনাজপুরে। ডায়ালিসিসে আক্রান্ত এক অসহায় রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজনে দলের বহুল আলোচিত ‘বুথ চলো’ কর্মসূচি মুহূর্তের মধ্যে স্থগিত রেখে নিজেই রক্তদান করলেন তৃণমূল কিষান ক্ষেতমজুর কংগ্রেসের রাজ্য নেতা মানস দাস। শনিবারের এই ঘটনায় শুধু দলীয় মহল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে চর্চা ও প্রশংসা।
রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বুথ চলো’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির আগেই রাজ্য নেতৃত্বের বার্তা নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর সফরে আসেন মানস দাস। শনিবার জেলা জুড়ে সাংগঠনিক পর্যালোচনা শেষে তাঁর কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালেই এক মানবিক সংকট সফরের গতিপথ বদলে দেয়।
একটি সূত্র মারফত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কিষান ক্ষেতমজদুর কংগ্রেসের সভাপতি সাহেনশা মোল্লার কাছে খবর আসে—তপন ব্লকের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন রায় কিডনির গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। ডায়ালিসিসের জন্য অবিলম্বে রক্ত না মিললে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। খবরটি পৌঁছাতেই কোনও রকম দেরি বা আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে নিজেই রক্তদানে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মানস দাস। দলীয় বৈঠক, কর্মসূচি, সময়সূচি—সবকিছু এক পাশে রেখে তিনি ছুটে যান বালুরঘাট ব্লাড ব্যাঙ্কে। তাঁর দেওয়া রক্তেই সম্ভব হয় জরুরি ডায়ালিসিস, কার্যত নতুন করে জীবন ফিরে পান ওই রোগী।
এই ঘটনায় আবেগে গলা ধরে আসে চিত্তরঞ্জন রায়ের স্ত্রী কাজলী রায়ের। তিনি বলেন,“আমরা তখন সম্পূর্ণ অসহায়। রক্ত না পেলে আমার স্বামীর চিকিৎসাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তৃণমূল নেতৃত্বকে জানাতেই মানস দাদা নিজে রক্ত দিতে এগিয়ে এলেন। আমাদের কাছে এটা শুধু সাহায্য নয়, নতুন জীবন পাওয়ার মতো।”

দলীয় নেতৃত্বের কাছেও এই ঘটনা অনুপ্রেরণার। জেলা সভাপতি সাহেনশা মোল্লা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেও রাজ্য নেতা যেভাবে মানবিকতার নজির গড়লেন, তা আমাদের সকলের কাছে শিক্ষণীয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত রাজনীতি—এই বার্তাই তিনি দিয়ে গেলেন।”
নিজের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মানস দাস বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে রাজনীতি করি। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় মানুষের পাশে থাকার কথা বলেন। সেই শিক্ষাতেই আমরা কাজ করি। একজন অসহায় মানুষ রক্তের অভাবে ডায়ালিসিস করাতে পারছেন না—এটা জানার পর আর কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না।”
ভোটের আগে কর্মসূচি নয়, পোস্টার–স্লোগানের রাজনীতি নয়—শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরে মানবিকতার যে দৃশ্য ধরা পড়ল, তা অনেকের কাছেই রাজনীতির এক অন্য, আরও উজ্জ্বল মুখ হয়ে রইল।