বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য: ৬ তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পরিবারের

0
45

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরের ঘটনার জের, খুনির চেষ্টা আগ্নেয়স্ত নিয়ে হামলা ,গাড়ি ভাঙচুর করা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের,গ্রেপ্তার ৬, ক্ষোভ প্রকাশ ধৃতদের আত্মীয়-স্বজন ও তৃণমূলের জেলা সভাপতির-তদন্তে পুলিশ শীতল চক্রবর্তী গঙ্গারামপুর ২৪শে এপ্রিল দক্ষিণ দিনাজপুর।কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে তার বিধানসভা কেন্দ্রের গঙ্গারামপুর ব্লকের বানিহারী এলাকায় ২৩ এপ্রিল দুপুরে ভোট চলাকালীন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীদের হাতে আক্রান্ত হবার ঘটনায় ১১জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীদের নামে তাকে খুনের চেষ্টা,আগ্নেয়স্ত দিয়ে ভয় দেখানো,গাড়ি ভাঙচুর করা সহ একাধিক ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের নামে খুনের চেষ্টা, আগ্নেয়স্ত দিয়ে ভয় দেখানো,মারধর করা,গাড়ি ভাঙচুর সহ একাধিক ভারতীয় ন্যায় সংবিধানের ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করে ছজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠায়।যদিও পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা ঘটনার সঙ্গে দায়ী নয় বলেই ধৃতদের আত্মীয়-স্বজনেরা দাবি করেছে।গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ দ্বিতীয়দের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে,বুনিয়াদপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী প্রিয়জিত চক্রবর্তী শুভেন্দু সরকারের হয়ে সেই লিখিত অভিযোগটি লিখে দিয়েছেন। সেই লেখাতে শুভেন্দু বাবু উল্লেখ করেছেন তাকে ভোটের দিন কুমারগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত গঙ্গারামপুর ব্লকের বানিহারী এলাকায় তাদের ইলেকশন এজেন্টকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীরা বের করে দিয়েছিলেন সেই বুথ থেকে সেই ঘটনার খবর পেতেই ঠিক তিনি সেখানে ছুটে যান। সেখান থেকে ফিরতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারী মমিদুল মিয়া ওয়াসিম আলী বুলেট আলি সাব্বির মিয়া মোবারক মিয়া হাবিবুর রহমান আলমগীর মিয়া মোশারফ হোসেন তাঞ্জুরুল মিয়া সাব্বির আলম আমির উদ্দিন মিঞারা মিলে তার উপরে হামলা চালায় এবং তাকে খুনের চেষ্টা করে ধারালো জিনিসপত্র দিয়ে। এমনকি আগ্নেয়স্ত দিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়, ভাঙচুর করা হয় তার গাড়িও। পরে তার কিছু লোকজন সেখানে ছুটে এসে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। শুভেন্দু সরকারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংবিধানের ১০৯(১),১১৫(২)১১৭(২),১২৬(২),১৭১(২)এ ,২(৫),৩২৪(৪),৩৫১(২),২৫ ধারায় খুনের চেষ্টা,আগ্নেয়স্ত্র নিয়ে হামলা করা, গাড়ি ভাঙচুর, সকলে একসঙ্গে মিলে এমন ঘটনা ঘটানো সহ একাধিক ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। সেই ঘটনায় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ রাতেই গঙ্গারামপুর থানার ২২নম্বর যাচি বুথ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ,তাদের নাম জাহির মিয়া, আফজাল আলী ও ২৩ নম্বর চকশ্রী বুথ থেকে রোস্তম রহমান(৩৫),সাইফুর রহমান(৩৬),ইরশাদ আলী (২৬),হাইদুর আলী(৩৭), তাদের বাড়ি সামরা গ্রামে। এই ৬ বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে যাওয়ার পথে গঙ্গারামপুর থানায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সেই ঘটনা এবং যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা কোনভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করেছে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের পরিবারের সদস্যরা। ধৃতদের পরিবারের সদস্য ,”যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা কোনভাবেই ঘটনার সঙ্গে যুক্তই নয়।তাছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হওয়া ভিডিও সকলে দেখেছে।সেই।সেই ঘটনায় কে কে জড়িয়ে রয়েছে যা পরিষ্কার দেখা গিয়েছে।পিস্তল কোথা থেকে আসলো,আমরা এঘটনার পুলিশের উপর ভরসা রাখছি।”
কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার বলেন,”যে ৬জন গ্রেপ্তার হয়েছে তারা জেহাদী।প্রশাসন তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেবে সেই দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন,”কোন প্রার্থীকে মারধোরের ঘটনা আমরা নিন্দা প্রকাশ করছি।তবে তিনি তার আইনজীবীকে দিয়ে যে পিস্তলের কথা এবং তাকে প্রানে মেরে ফেলে দেওয়ার কথা তিনি দেখেছেন সেটা আমার মনে হয় ঠিক না।পুলিশের উপর ভরসা রাখছি তদন্ত করলেই সব প্রমাণ হবে।” গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত মজুমদার বলেন,” বিচারক সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে ২৭ এপ্রিল ধৃত ছয়জনকে তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এদিন বানিহারী এলাকায় গিয়ে দেখা গেল এলাকা কার্যত শুনছেন দোকানপাট রয়েছে বন্ধ। এলাকায় যেন শান্ত আকার রূপ নিয়েছে।