ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের কোটি টাকার তোলা কার পকেটে!

0
56

ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের কোটি টাকার তোলা কার পকেটে! ডাকু’-বাবুনের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে উঠে আসতে পারে বহু প্রভাবশালী নাম

বালুরঘাট, ২২ মে —- সরকারি কাজ পেতে হলে দিতে হত ‘পার্সেন্টেজ’। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলেই শুরু হত ভয় দেখানো, কাজ আটকে দেওয়া, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি— দক্ষিণ দিনাজপুরে ঠিকাদারদের একাংশের এমন অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল জেলায়। সেই মামলাতেই জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক মাহাত ওরফে ‘ডাকু’, দিবাকর রায় ওরফে বাবুন এবং মাসুদ সরকারকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বালুরঘাট জেলা আদালত। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শহরের সাহেবকাছারি এলাকার ঠিকাদার সৌম্যব্রত দে। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জেলা পরিষদের বিভিন্ন নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল কাটমানির কারবার। কাজ পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা দাবি করা হত বলে অভিযোগ। আর টাকা দিতে না চাইলেই চলত লাগাতার চাপ ও হুমকি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ ঘিরে সৌম্যব্রতর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করতেই তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের পরেই তদন্তে নামে বালুরঘাট থানার পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই কলকাতায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কৌশিক মাহাত ও দিবাকর রায়-সহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের বালুরঘাটে আনা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই কাটমানির অঙ্ক কয়েক লক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি কাজ ঘিরে কোটি কোটি টাকার তোলা আদায়ের একটি বড় চক্রের হদিস মিলতে পারে বলেই অনুমান পুলিশের। সেই টাকা কার কার পকেটে পৌঁছত, কোন কোন প্রভাবশালী নাম এই চক্রের আড়ালে রয়েছে, এখন তা জানতেই ধৃতদের টানা জেরা করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির উৎস নিয়েও খোঁজ শুরু হয়েছে।
এ দিন আদালতে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কৌশিক মাহাত শুধু বলেন, “আপনারা তো সবই জানেন… আর কী বলব!” তাঁর ওই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ঘিরেই আরও ঘনীভূত হয়েছে জল্পনা।