ডাকু ও বাবুনের দৌরাত্ম্যে কাটমানির সাম্রাজ্য! কলকাতা থেকে গ্রেফতার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, তোলপাড় দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতি
বালুরঘাট, ২১ মে —- সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি টাকার কাটমানি, ঠিকাদারদের প্রাণনাশের হুমকি, তোলাবাজি আর দাপটের রাজত্ব! শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা কৌশিক মাহাত ওরফে ‘ডাকু’। বৃহস্পতিবার কলকাতায় গোপন ডেরায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বালুরঘাট থানার পুলিশ। একইসঙ্গে ধরা পড়েছে দিবাকর রায় ওরফে বাবুন, মাসুদ রহমান-সহ আরও তিনজন। ঘটনায় কার্যত বিস্ফোরণ জেলার রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৮ মে বালুরঘাটের সাহেবকাছারি এলাকার বাসিন্দা তথা ঠিকাদার সৌম্যব্রত দে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর ‘কাটমানি চক্র’-এর ছবি। তদন্তকারীদের দাবি, এগ্রো ইন্ডিয়া, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের রাস্তা, নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ— প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঠিকাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি করত এই চক্র। কাজ করতে হলে দিতে হত মোটা অঙ্কের কমিশন। সেই কাটমানির পরিমাণ কখনও ১৫ শতাংশ, কখনও ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেত বলেও অভিযোগ।
অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করলেই শুরু হত হুমকি, ভয় দেখানো, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চাপ, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও। সৌম্যব্রত দে জানিয়েছেন, কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির একটি রাস্তা সংস্কারের কাজের জন্য তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় লাগাতার মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে পড়েন তিনি। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন।
যে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কলকাতায় অভিযান চালায় বালুরঘাট থানার বিশেষ দল। দীর্ঘ নজরদারির পর মূল অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়। এই গ্রেফতারের পর থেকেই অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি জেলা কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পরিকল্পিত ভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। কাটমানির অভিযোগ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা জয়ন্ত প্রামানিক-এর কটাক্ষ, দল বদলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির সাম্রাজ্য চালানো হয়েছে। হিলি থেকে বালুরঘাট— গোটা জেলায় কাটমানির আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এদিনের গ্রেফতারিতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।
























