গঙ্গারামপুরের সাহাপাড়ার ১০১ বছরের জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজো আজ সর্বজনীন পুজো হয়

0
209

গঙ্গারামপুরের সাহাপাড়ার ১০১ বছরের জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজো আজ সর্বজনীন পুজো হয়


শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট, ২৬ অগস্ট – প্রায় ১০১বছর আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের জমিদার ত্রৈকলানাথ সাহার হাতে শুরু হওয়া দুর্গাপুজো আজও চলছে, তবে জমিদারির পুজো থেকে তা পরিণত হয়েছে সর্বজনীন দুর্গাপুজোয়।
১৮৩৩ সালে ত্রৈকলানাথ সাহা এই পুজো শুরু করেছিলেন।পরবর্তী সময়ে তাঁর ছেলে মহিনীমোহন সাহা ও তাঁর বংশধরেরা দীর্ঘদিন ধরে এই পুজো করে আসেন। কিন্তু জমিদারির অবসান ও উত্তরসূরিদের অনীহার কারণে কয়েক দশক আগে থেকেই সাহাপাড়ার মানুষজন নিজেদের উদ্যোগে সর্বজনীন দুর্গাপুজো হিসেবে এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে সাহাপাড়ার মন্দিরে পাকা জায়গাতেই মায়ের পূজা হয়।কয়েক বছর আগে জমিদারবাড়ির এক বংশধর সুজিত কুমার সাহা সহ এলাকাবাসীরা মিলে নতুন মন্দির নির্মাণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী আজও অষ্টমীতেই অন্নভোগ দেওয়া হয় এবং হাজারো ভক্তকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয়।
মৃৎশিল্পী উত্তম রায় প্রজন্ম ধরে একচালার প্রতিমা গড়ে আসছেন জমিদারবাড়ির এই পুজোর জন্য।তাঁর কথায়, “ঠাকুরদা ও বাবা এই প্রতিমা গড়তেন, সেই ধারাই আমি ধরে রেখেছি।” মোহিনী মোহন সাহার বংশধর তপেশ সাহা বলেন,”পুরনো নিয়মে সঙ্গে সঙ্গে এখন পাকা জায়গাতে দুর্গাপুজো হয়ে থাকে।”
এলাকার বাসিন্দা ইতিরানী সাহা,গৌতম সাহারা জানান, আগে যাত্রা,গান,কীর্তন, ঢাকের বাজনায় ভরে থাকত পুজো।এখন আর সে জৌলুস না থাকলেও ভক্তি ও নিষ্ঠা দিয়ে প্রতিবেশিরা মিলে বাজেট জোগাড় করে পুজো করেন। এলাকাবাসীদের সঙ্গে আমরা আনন্দিত হয়ে পূজো করে থাকি।”
পুজো কমিটির সদস্য সত্যজিৎ কুমার রায় বলেন, “পুরনো নিয়ম মেনেই পুজো হয়,গ্রামবাসীরাই সব আয়োজন করেন,আমরা পাশে থাকি।”
সব মিলিয়ে,শতবর্ষ ছুঁয়ে যাওয়া জমিদারবাড়ির এই পুজো আজও গঙ্গারামপুরের সাহাপাড়ায় ভক্তি ও বিশ্বাসের আবহে উদযাপিত হচ্ছে।