গঙ্গারামপুরের সভা থেকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন অমিত শাহ

0
35

শীতল চক্রবর্তী, গঙ্গারামপুর, ১৪ এপ্রিল :
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল গঙ্গারামপুরের জনসভা। মঙ্গলবার গঙ্গারামপুর শহরের সন্নিকটে গচিয়ার এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। গঙ্গারামপুর ও তপন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
দুপুর প্রায় আড়াইটা নাগাদ হেলিকপ্টারে সভাস্থলে পৌঁছন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রথমেই আসন্ন বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান করেন। বক্তব্যের শুরুতেই স্থানীয় আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে পুনর্ভবা নদী, শিববাড়ি শিব মন্দির ও বিদ্যেশ্বরী মন্দিরের উল্লেখ করেন।
এদিনের ভাষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যুব ও মহিলাদের জন্য একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। উত্তরবঙ্গে একটি নতুন এআইআইএমএস মানের ৬০০ বেডের অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল, একটি আইটিআই এবং একটি এ এমস স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি ও ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন। রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দার্জিলিংকে ইকো-অ্যাডভেঞ্চার হাবে পরিণত করার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে চারটি বড় শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন তিনি।
সামাজিক ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ।বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা, গর্ভবতী মহিলাদের এককালীন ২১হাজার টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের জন্যও একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। কৃষি ভাতা বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করা, ধানের সহায়ক মূল্য ৩১০০ টাকা নির্ধারণ এবং আলু বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিনের সভা থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-কে তীব্র আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।পাশাপাশি তিনি হুমায়ুন কবিরকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের ‘এজেন্ট’ বলেও মন্তব্য করেন।
গঙ্গারামপুরের পুনর্ভবা নদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার নদীটিকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র পরিবারতন্ত্র বজায় রাখা এবং ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো। তবে এবারের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হবে এবং বিজেপির একজন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের নেতৃত্ব দেবেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মীরা।