গঙ্গারামপুরের শিববাড়ী শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় বন্যার জলে ভেঙে যাওয়া ঘর ছাড়তে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু এক যুবকের, পাশে থাকার আশ্বাস জেলা তৃণমূল নেতাদের।

0
814

শীতল চক্রবর্তী গঙ্গারামপুর ২৯ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুর:- জেলাতে প্রথম বন্যার জলে ডুবে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন মৃতের আত্মীয় স্বজনেরা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পৌরসভার 15 নম্বর ওয়ার্ডের শিববাড়ী শ্মশান সংলগ্ন এলাকার পি ডাবলু ডি রাস্তার পাশে। বন্যার জলে রাস্তার পাশে থাকা ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় তা মেরামতি করার সময় জলে চলে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার সহ এলাকাজুড়ে। খবর পেতেই মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য জয়ন্ত কুমার দাস। ওই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতিও ।
পুলিশ জানিয়েছে জলে ডুবে মৃত্যু হওয়া ওই যুবকের নাম অজয় ফটিক(২০)বছর। তার বাড়ি গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিববাড়ী শ্মশান সংলগ্ন এলাকার পি ডাবলু ডী রাস্তার পাশে। ঘর বলতে একখানি টিনের চাল দেওয়া ছাউনি দেওয়া মুলি বাঁশের বেড়া দিয়ে। পরিবার নিয়ে শ্মশান সংলগ্ন এলাকার পি ডাবলু ডি রাস্তার পাশের জল সিঙ্গারা চাষাবাদের পাশাপাশি চায়ের দোকান চালিয়ে তাদের জীবন সংগ্রাম চালানো। বর্তমান সময়ে পূর্নভবা নদী বাঁধের জল আশ্বিনের বর্ষণে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তাতে ১৫ নাম্বার ওয়ার্ডের নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষজন পড়েছে চরম সমস্যায়। সমস্যায় পড়েছেন পি ডাবলু ডি রাস্তার পাশে থাকা পরিবার গুলি।
মৃত অজয়ের পরিবার সূত্রের খবর, বন্যার জলের কারণে তাদের একমাত্র ভাঙ্গাচুরা ঘর থেকে জলের তলায় যেতে বসেছিল। তাই এদিন সকালে মেরামতি করতে গিয়েই পূর্নভবা নদীর জলে সে তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের লোকজনদের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গঙ্গারামপুর মহাকুমার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে মৃতের মা ও দাদা পিন্টু ফটিকেরা জানিয়েছেন, ঘরে কাজ করতে গিয়ে বন্যার জলে তলিয়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে। সরকার পাশে দারাক সেটাই চাই।
মৃতের এক প্রতিবেশী প্রফুল্ল দাস জানিয়েছেন, বন্যার জলে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে এই পরিবারটি অবস্থা ভয়ানোক খারাপ। তাই সরকার পাশে দাঁড়ায় সেটা আমরা চাই।
ঘটনার খবর পেতেই তার পাশে দাড়িয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা তথা মিডিয়াকম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য জয়ন্ত কুমার দাস ও বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দাসও । তারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় সমবেদনা জানাই, সেইসঙ্গে ওই পরিবারটি যেন সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা পায় তার জন্য চেষ্টা করা হবে।
বন্যার জলে ডুবে প্রথম কোন যুবকের গঙ্গারামপুরে এমন মধ্যে ঘটনায় শোরগোল পড়েছে এলাকা জুড়ে।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।