জেলা পরিষদে ইস্তফার কাউন্টডাউন!সভাধিপতি-সহ একঝাঁক সদস্যের ইস্তফার সিদ্ধান্তে তোলপাড় দক্ষিণ দিনাজপুর

0
63

জেলা পরিষদে ইস্তফার কাউন্টডাউন!সভাধিপতি-সহ একঝাঁক সদস্যের ইস্তফার সিদ্ধান্তে তোলপাড় দক্ষিণ দিনাজপুর

বালুরঘাট, ২৫ জুন —- দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের অন্দরমহলে কি তবে বেজে উঠেছে বিদায়ের ঘণ্টা? তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদে সভাধিপতি-সহ একাধিক সদস্যের একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জেলায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। প্রশাসনিক থেকে রাজনৈতিক মহল সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন, হঠাৎ কেন এই ইস্তফার হিড়িক?
জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য সুভাষ ভাওয়ালের মুখে কার্যত সেই জল্পনারই সিলমোহর। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু সেই কাজ যদি করা সম্ভব না হয়, তাহলে পদে বসে থাকার কোনও মানে নেই। শুধু ইস্তফার ইঙ্গিত নয়, তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আট থেকে দশজন সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা সকলেই পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন। অর্থাৎ এটি কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংগঠিতভাবেই ঘটতে চলেছে বড়সড় পদক্ষেপ।

২১ আসনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই বোর্ডকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। কাটমানি তোলার অভিযোগে জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ— বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেলা পরিষদের ভূমিকা। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হলেও তার সুফল পৌঁছয়নি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতিও দ্রুত বদলেছে। বিভিন্ন জায়গায় জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েছেন শাসকদলের নেতারা। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও গণরোষ, কোথাও আবার প্রকাশ্য অপমানের ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই আবহে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্যদের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বিশেষ বার্তা আসার পরই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে।

সভাধিপতি চিন্তামণি বিহার মন্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে অন্য সদস্যরা পদত্যাগ করলে তিনিও একই পথে হাঁটবেন। ফলে জেলা পরিষদের শীর্ষস্তর থেকেই যে পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি শুভেন্দু সরকারের কটাক্ষ, বছরের পর বছর ক্ষমতার দাপটে চলেছে দুর্নীতি আর সন্ত্রাস। এখন মানুষ জবাব চাইছে। সেই জনরোষের ভয়েই নেতারা ইস্তফার আড়ালে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন।

তবে সব প্রশ্নের মাঝেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও উত্তরহীন— হঠাৎ কেন এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত? এটি কি শুধুই কাজ করতে না পারার হতাশা, নাকি আসন্ন রাজনৈতিক ঝড়ের আগাম বার্তা? দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহল এখন সেই উত্তর খুঁজছে। আর জেলার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন জেলা পরিষদের দিকে, যেখানে আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণের অনেক হিসেব।