প্রতিবন্ধী যুবককে বেসরকারি বাসের কন্ডাক্টারের হাতে হেনস্থার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

0
33

প্রতিবন্ধী যুবককে বেসরকারি বাসের কন্ডাক্টারের হাতে হেনস্থার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য,কন্ডাক্টারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি, সরব সাধারণ মানুষজন
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ১৯ মে দক্ষিণ দিনাজপুরঃ-
এক প্রতিবন্ধী যুবককে বেসরকারি বাসে চরম হেনস্থা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। অভিযুক্ত বাস কন্ডাক্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে প্রতিবন্ধী সংগঠনের সদস্যরাও।
অভিযোগ,তপন থানার ডাই নগর এলাকার বাসিন্দা অংশু ঘোষ নামে এক শতভাগ প্রতিবন্ধী যুবক বিশেষ প্রয়োজনের কাজে তপন মদনাহার থেকে বালুরঘাটে যাচ্ছিলেন। তিনি হিলিমোড়ে নামার উদ্দেশ্যে হিলি-বালুরঘাট ভায়া নালাগোলা রুটের “মাম্পি ট্রাভেলস” নামে একটি বেসরকারি বাসে ওঠেন। সেই সময় প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র দেখানোকে কেন্দ্র করেই বাসের কন্ডাক্টারের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ।
অংশু ঘোষের দাবি,প্রতিবন্ধী কার্ড দেখানোর পরেও কন্ডাক্টার তাঁর পরিচয়পত্রকে “জাল” বলে অপমান করেন এবং নানা ভাবে ভয় দেখাতে থাকেন। এমনকি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি মস্তান বলে দাবি করে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কন্ডাক্টারকে বলতে শোনা যায়, এই লাইনে সকলেই তাকে চেনে, পুলিশকে ডাকলে তার নাম বলতে হবে, এমনকি অতীতে অস্ত্র ও গরু পাচারের মামলার প্রসঙ্গ তুলেও ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে, সেখান থেকে তিনি টাকাও তুলতেন বলে খবর।
অভিযোগ আরও, ওই যুবক ভাতা কি না, তা নিয়েও অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। গোটা ঘটনায় বাসের মধ্যেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অংশু ঘোষ। তিনি পরে বিষয়টি তপন থানার আইসিকে মৌখিকভাবে জানান।
সরকারিভাবে স্বীকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাসে যাতায়াত সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে।জেলা প্রশাসনের তরফে বেসরকারি বাস মালিকদের সেই নির্দেশিকাও দেওয়া আছে বলে জানা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও এভাবে এক প্রতিবন্ধী যুবককে অপমান ও হেনস্থা করার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।
১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী যুবক অংশু ঘোষ অভিযোগ করে বলেন,“আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয়েছে। অপমান করা হয়েছে।আমি চাই ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
প্রতিবন্ধী যুবকের ভাই অরিত্র ঘোষ বলেন,“ভাইয়ের ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও ওই কন্ডাক্টার মারমুখী আচরণ করেন। একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর সঙ্গে এভাবে ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না।আমরা অভিযুক্ত কন্ডাক্টরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এদিকে ভাইরাল ভিডিও সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। বহু মানুষ অভিযুক্ত কন্ডাক্টারের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলরাম বসাক বলেন,“বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনলাম। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলাশাসক বালা সুব্রামানিয়াম টি বলেন,“এমন ঘটনা হওয়া উচিত নয়।পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তপন থানার আইসি জনমারি ভিয়ান্নে লেপচা জানান,“মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, সরকার বদলালেও কি কিছু পরিবহণ কর্মীদের মানসিকতার বদল হয়নি? একজন ১০০% প্রতিবন্ধী যুবকের সঙ্গে প্রকাশ্যে এধরনের দুষ্কৃতীমূলক আচরণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।এখন প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা কড়া পদক্ষেপ নেয়,সেদিকেই তাকিয়ে জেলার মানুষ।