ভরা বর্ষায় পাকা রাস্তা যেন পুকুর, জল ডিঙিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ৭-৮ গ্রামের পড়ুয়ারা স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব শিক্ষক-ছাত্ররা

0
11

ভরা বর্ষায় পাকা রাস্তা যেন পুকুর, জল ডিঙিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ৭-৮ গ্রামের পড়ুয়ারা
স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব শিক্ষক-ছাত্ররা
শীতল চক্রবর্তী কুমারগঞ্জ ১১ জুলাই: ভরা বর্ষায় পাকা রাস্তা যেন আর রাস্তা নেই, একেবারে পুকুর! হাঁটু ছুঁইছুঁই জল, তার নীচে লুকিয়ে বড় বড় গর্ত। প্রতিদিন সেই জল পেরিয়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে শত শত পড়ুয়াকে। সাইকেল চালানো কার্যত অসম্ভব। কেউ হেঁটে যাচ্ছে, কেউ আবার জলভর্তি গর্তে পড়ে আহতও হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চেয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের শ্রীরামপুর বাজার থেকে কুমারগঞ্জ ব্লকের সীতাহার মূলগ্রাম হাই স্কুল পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার পাকা রাস্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে অসংখ্য বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তার উপর রাস্তার দু’পাশে কার্যকর জলনিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে সেই জল মাসের পর মাস জমে থেকে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন সীতাহার, মূলগ্রাম, শ্রীরামপুর, ভোলানাথপুর, জগদীশপুর, জোশরাইল, বরম-সহ অন্তত সাত-আটটি গ্রামের পড়ুয়ারা সীতাহার মূলগ্রাম হাই স্কুলে যাতায়াত করে। বর্ষার সময় জলভর্তি রাস্তা পার হওয়াই তাদের নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
নবম শ্রেণির ছাত্রী অনুশ্রী দাসের কথায়, “শ্রীরামপুর বাজার থেকে স্কুল পর্যন্ত পুরো রাস্তা জলে ডুবে থাকে। সাইকেল নিয়ে যেতে খুব অসুবিধা হয়। অনেক সময় হেঁটেই যেতে হয়। অনেকে আবার সাইকেল-সহ জলে পড়ে যায়। তিন-চার মাস ধরে এই সমস্যা চলতেই থাকে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত রাস্তার স্থায়ী সমাধান করা হোক।”
একই অভিযোগ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাসেল মণ্ডলেরও। তার কথায়, “বড় বড় গর্তে জল জমে রাস্তা একেবারে পুকুর হয়ে যায়। ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই কয়েক মাস একই অবস্থা থাকে। দ্রুত রাস্তা মেরামত করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।”
সীতাহার মূলগ্রাম হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাবেদ আলী বলেন, “এটাকে এখন আর রাস্তা বলা যায় না। বরং ছোট নদী বা পুকুরের মতো অবস্থা হয়েছে। আমাদের প্রায় ৭০০-৮০০ ছাত্রছাত্রীর অধিকাংশই এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে কুমারগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, “রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে কাজটি এগোয়নি। বিষয়টি নিয়ে আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। আশা করি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।”