তৃণমূলে পদত্যাগের ধাক্কা, ডাঙা পঞ্চায়েতে গেরুয়া পালাবদল! কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় প্রধান-উপপ্রধান গড়ল বিজেপি
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩০ সেপ্টেম্বর —— দুর্নীতির অভিযোগ, পদত্যাগে অচলাবস্থা, তারই মধ্যে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে উড়ল গেরুয়া আবির। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার বালুরঘাট শহর লাগোয়া ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করল বিজেপি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের গরহাজিরার মধ্যেই প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির অসিত সরকার এবং বাপী বর্মন। বোর্ড গঠনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই মেটে প্রক্রিয়া।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ডাঙার ২৮টি আসনের মধ্যে ১৬টি পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপির ঝুলিতে যায় ১১টি এবং একটি আসন পায় বামেরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বোর্ড গঠনের পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে বিজেপি। তাদের অভিযোগ ছিল, ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে পঞ্চায়েত দখল করেছিল তৃণমূল। যদিও বিজেপির সেই অভিযোগ মানতে চায়নি তৃণমূল। এর পরেই বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। রাজ্যে পালাবদলের পরেই পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান একসঙ্গে পদত্যাগ করেন। তাঁদের পাশাপাশি একাধিক পঞ্চায়েত সদস্যও সরে দাঁড়ান। ফলে সংখ্যার সমীকরণ তো বটেই, পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক কাজকর্ম নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। কার্যত অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয় ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতে।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বুধবার নতুন করে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সম্ভাব্য উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েত চত্বরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। তৃণমূলের সদস্যরা গরহাজির থাকায় বিজেপির অসিত সরকারকে প্রধান এবং বাপী বর্মনকে উপপ্রধান নির্বাচিত করা হয়। যে
বোর্ড গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পঞ্চায়েতের বাইরে জমায়েত করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। নতুন প্রধান ও উপপ্রধানকে ফুলের মালা পরিয়ে, গেরুয়া আবির মাখিয়ে শুরু হয় বিজয় মিছিল। আবিরের রঙে মুহূর্তেই বদলে যায় পঞ্চায়েত চত্বরের রাজনৈতিক ছবি।
নতুন প্রধান অসিত সরকার বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার শপথ নিয়েই চেয়ারে বসেছি। দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপী সরকারের দাবি, মানুষের রায়ে তৃণমূল এই বোর্ড গঠন করেনি। ছাপ্পা ভোটে জিতে পঞ্চায়েতে লাগামহীন দুর্নীতি করেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ভয়ে প্রধান, উপপ্রধান-সহ একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
তৃণমূলের সদস্যরা এদিন উপস্থিত না থাকায় তাঁদের তরফে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ২০২৩ এর ভোটের সমীকরণ থেকে বুধবারের বোর্ড গঠন—ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই পালাবদল দক্ষিণ দিনাজপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে।




















