জঙ্গি যোগের অভিযোগ ওঠা ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিল বাবা! বিহারের ভাগলপুরের গোপন আস্তানা থেকে আটক বংশীহারির মজিবুর
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ অক্টোবর —- বংশীহারীতে এনআইএ-র অভিযানের পরেই নতুন মোড়। সন্দেহভাজন জেএমবি-যোগের তদন্তে বিহারের ভাগলপুর থেকে মজিবুর রহমান নামে এক যুবককে আটক করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁকে আটক করে বংশীহারী থানায় নিয়ে আসে। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার বিষয়ে এনআইএ-কে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা থানায় পৌঁছলে মজিবুরকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বংশীহারী থানার কুশকারী এলাকায় মজিবুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল এনআইএ-র চার সদস্যের একটি দল। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে যান তদন্তকারীরা। তার পর থেকেই মজিবুরের খোঁজে তৎপর হয় জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরে ছেলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হলে সেই খবর পুলিশকে জানান মজিবুরের বাবা মিজানুর রহমান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভাগলপুরে মজিবুরের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ মেলে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই এসডিপিও শুভতোষ সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিহারে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আটক করে।
বাবা মিজানুর রহমানের দাবি, তাঁর ছেলে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে তাঁকে জানিয়েছে। কুশকারী হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করে বিএসসি পাশ করেন মজিবুর। পরে বাতাসকুড়ি থেকে বিএড করেন। এর পর আইপিএস হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সেই ছেলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ওঠায় বিস্মিত বাবা।
মিজানুরের বক্তব্য, প্রথমে এনআইএ-র আধিকারিকদের কাছেও তিনি ছেলের নির্দোষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, ছেলে যদি সত্যিই কোনও বেআইনি কাজে যুক্ত থাকে, তবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি, ছেলেকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার আবেদনও জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এখন নজর এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মজিবুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
























