কাঠাম পুজো দিয়েই শুরু বোল্লা কালীর কাউন্টডাউন !

0
30

কাঠাম পুজো দিয়েই শুরু বোল্লা কালীর কাউন্টডাউন ! ২৭ নভেম্বর থেকে মাতৃ আরাধনা, সম্প্রীতির টানে ফের জনজোয়ারের অপেক্ষায় বোল্লা

বালুরঘাট, ২৩ অক্টোবর —- কাঠাম পুজোর মধ্য দিয়েই বেজে গেল বোল্লা কালীর মহোৎসবের দামামা। শুরু হয়ে গেল কাউন্টডাউন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা গ্রামে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বোল্লা কালীপুজোকে ঘিরে শুক্রবার থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রাচীন রীতি মেনে এ দিন সকালে মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে ঢাকঢোল বাজিয়ে তুলে আনা হয় দেবীর কাঠাম। দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে লাল কাপড়ে ঢেকে কাঠাম পুজো করেন পুরোহিত। এই আচারকে ঘিরে মন্দির চত্বরে ভিড় জমান হাজার হাজার পুণ্যার্থী।

রাসপূর্ণিমার পরের শুক্রবার, আগামী ২৭ নভেম্বর বোল্লা গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে দেবীর পুজো। তাকে কেন্দ্র করে বসবে তিন দিনের বিশাল মেলা। ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য ছবি। হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে বোল্লার এই মেলা বছরের পর বছর ধরে মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

শতাব্দীপ্রাচীন এই মেলার বিশেষত্ব আরও এক জায়গায়। মেলা প্রাঙ্গণের একদিকে রয়েছে কালীমন্দির, আর তার উল্টো দিকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদগা ও কবরস্থান। পাশাপাশি অবস্থান করা দুই ধর্মীয় স্থাপনা যেন সম্প্রীতিরই বার্তা বহন করে।

প্রথা অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর পরের শুক্রবার কাঠাম পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীর প্রতিমা নির্মাণের কাজ। প্রায় সাড়ে সাত হাত উচ্চতার বিশালাকার প্রতিমা এবং দেবীর মাহাত্ম্য দেখতে প্রতি বছরই দক্ষিণ দিনাজপুরের গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে ওঠে স্থানীয় অর্থনীতিও।

বোল্লা কালীমন্দিরের পুরোহিত অরূপ চক্রবর্তী বলেন, প্রাচীন রীতি মেনেই এ দিন দেবীর কাঠাম পুজো সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর দেবীর পুজো হবে। পুজোকে কেন্দ্র করে এ বারও বোল্লা গ্রামে বসবে বিশাল মেলা।