“উলট পুরান”বিজেপির সমর্থক হওয়ায় এক শিক্ষকের প্রায় আড়াইশো গাছ কাটা পড়ল রাতের অন্ধকারে

0
43

“উলট পুরান”বিজেপির সমর্থক হওয়ায় এক শিক্ষকের প্রায় আড়াইশো গাছ কাটা পড়ল রাতের অন্ধকারে, অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে, অস্বীকার তৃণমূলের ,তদন্তে পুলিশ
শীতল চক্রবর্তী গঙ্গারামপুর ১৮ মে দক্ষিণ দিনাজপুর :-রাতের অন্ধকারে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বপ্নের বাগান তছনছ হয়ে গেল তৃণমুলের দুষ্কৃতীদের হাতে বলে অভিযোগ উঠেছে।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর অঞ্চলের পূর্ব যাদববাটি গ্রামে প্রায় আড়াইশোরও বেশি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।বাগান মালিক তথা শিক্ষক বিজেপি কর্মী অনিল সরকারের দাবি, তিনি বিজেপির সমর্থক হওয়ায় রাজনৈতিক আক্রশ থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।এদিন সেখানে এলাকার বিজেপি নেতারা ছুটে গিয়ে ঘটনার নিন্দা করেন।নিন্দা প্রকাশ করেন এলকারবাদীরাও।পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর থানার পূর্ব যাদববাটি গ্রামের পুনর্ভবা নদীর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের একটি বাগান তৈরি করেছিলেন অনিল সরকার নামে ও শিক্ষক বিজেপি সমর্থক। প্রায় এক বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গাছগুলো বড় করে তুলেছিলেন তিনি।বাগানে ছিল তিনশোরও বেশি গাছ । সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু রবিবার গভীর রাতে কেউ বা কারা বাগানে ঢুকে ২৫০ এর বেশি গাছ কেটে জমিতে ফেলে রেখে রাখে ।
সোমবার ভোরে খবর পেয়ে বাগানে পৌঁছেই স্তব্ধ হয়ে যান শিক্ষক অনিল সরকার নামে ওই বিজেপি কর্মী। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কাটা গাছ । মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।গোটা দৃশ্য দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।পরে বিষয়টি গঙ্গারামপুর থানায় বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়।
চোখে জল নিয়ে অনিল সরকার নামে ওই শিক্ষক বিজেপি কর্মী তৃণমূলের দুষ্কৃতিকারীরাই এমন ঘটনা করেছে বলে অভিযোগ করে বলেন,”আমি প্রায় বছরখানেক ধরে খুব যত্ন করে এই বাগান তৈরি করেছিলাম।গাছপালা আমি ভীষণ ভালোবাসি। পরিবেশের ভালোর জন্যই গাছগুলো লাগিয়েছিলাম । প্রতিটা গাছকে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করেছি।কিন্তু রাতের অন্ধকারে আড়াইশোটিরও বেশি গাছ কেটে দিল।আমি বিজেপি করি বলেই তৃণমূলের সমাজবিরোধীরা এই কাজ করেছে বলে আমার সন্দেহ।এর আগেও ২০২১সালে আমার অন্য একটি বাগানের গাছ কেটে দেওয়া হয়েছিল । আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনিল সরকারের ভাই নিখিল সরকারও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাতের অন্ধকারে এই ধরনের কাজ যারা করেছে তারা সমাজবিরোধী ছাড়া আর কেউ নয়। আমরা কাউকে চোখে দেখিনি, কিন্তু ২৫০-র বেশি গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে ।এর আইনগত ব্যবস্থা হওয়া উচিত।
এলাকাবাসী গোপাল রাজবংশী অভিযোগ করে বলেন,”যারাই এমন কাজ করেছে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করুক সেই দাবি জানাই।”
এলাকার বিজেপি নেতা ভগীরথ সরকার খবর পেয়ে যে ঘটনাস্থলে ছুটি আসে ওই শিক্ষককে সমবেদনা জানান। পরে তিনি বলেন,”যারাই এমন কাজ করে থাকুক না কেন পুলিশ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে সেই দাবি জানিয়েছি।” তবে ঘটনায় রাজনৈতিক রং দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা মহাদেব বর্মন বলেন,”অনিলবাবু অত্যন্ত ভালো মানুষ,সকলের সঙ্গেই ওনার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তৃণমূলের লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।এখন তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী(পদাধিকারী) ছাড়া আলাদা করে কেউ তৃণমূল করে না। তাই এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই ।”
গঙ্গারামপুর থানার আইসি জানিয়েছেন,”পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। কড়া হাতে এমন ঘটনা মোকাবিলা করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে । একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ? কোন কারণে রাতারাতি ধ্বংস করে দেওয়া হল এক শিক্ষকের বহু দিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন ?এখন সেই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন ও এলাকাবাসী ।