বক্সায় বাঘ পুনর্বাসন, বিশ্বমানের ফরেস্ট ডেস্টিনেশন গড়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
আলিপুরদুয়ার, ২ অক্টোবর: বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভা থেকে তিনি জানান, এদিন বক্সা জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছেন তিনি। বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনী বক্সায় আনার জন্য বিহার সরকারকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দু’মাসের মধ্যে আরও তিনটি বাঘ বক্সা জঙ্গলে ছাড়া হবে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বক্সা ‘টাইগার রিজার্ভ’ নামে পরিচিত থাকলেও সেখানে বাঘ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বক্সার উন্নয়নে তেমন কোনও কাজ হয়নি। বর্তমান সরকার বক্সার প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলকে বিশ্বমানের ফরেস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। গোটা বিশ্বের পর্যটকদের আলিপুরদুয়ার ও বক্সায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এদিন আলিপুরদুয়ারের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের মাধ্যমে আলিপুরদুয়ারবাসীর ঋণ শোধ করা হবে। জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এবং আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। তাঁর কথায়, ‘কথা কম, কাজ বেশি’—এই নীতিতেই আলিপুরদুয়ারকে সাজানোর কাজ চলবে।
অতীতে আলিপুরদুয়ারের বনাঞ্চল লুট, বন্যপ্রাণী শিকার এবং বালি-পাথর লুটের অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে চা বাগান খোলার জন্য সরকার ব্যবস্থা করছে বলে জানান তিনি। চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র থেকে ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনজাতি উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনজাতি পরিবারের জন্য বিশেষ ফুড প্যাকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। টোটোপাড়ায় যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সেখানে গিয়ে টোটো জনজাতির মানুষের বাড়ি-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী ১৫ নভেম্বর জনজাতি গৌরব দিবস উপলক্ষে ফের আলিপুরদুয়ারে আসার কথাও সভা থেকে জানান তিনি। বক্সায় বাঘ পুনর্বাসনের পাশাপাশি পর্যটন, বনাঞ্চল সংরক্ষণ, চা শ্রমিক ও জনজাতি উন্নয়নকে সামনে রেখে আলিপুরদুয়ারকে নতুনভাবে গড়ে তোলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
























