রায়গঞ্জের বন্দর আদি সর্বজনীন দুর্গাপূজা উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব

0
27

রায়গঞ্জের বন্দর আদি সর্বজনীন দুর্গাপূজা উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব, যার ইতিহাস প্রায় ৪০০ থেকে ৫৭৫ বছর পুরনো। কুলিক নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক পূজাকে কেন্দ্র করে অনেক লোককথা ও ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে
ঐতিহাসিক পটভূমি ও সূচনা

বণিকদের আগমন: মধ্যযুগের শেষের দিকে যখন কুলিক নদী পূর্ণযৌবনা ছিল, তখন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) এবং অন্যান্য প্রদেশের সওদাগর ও বণিকরা বড় বড় নৌকা ও বজরা নিয়ে এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতেন। এই কুলিক নদীর ঘাটকে কেন্দ্র করে যে জনপদ গড়ে ওঠে, তা ‘বন্দর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
স্বপ্নাদেশ ও সূচনা: জনশ্রুতি রয়েছে, বাণিজ্য করতে আসা এক সওদাগর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কুলিক নদীর তীরে এই দুর্গাপূজার সূচনা করেছিলেন। অন্য একটি মত অনুসারে, সিন্ধু প্রদেশ (পাঞ্জাব) থেকে আসা এক সাধু প্রথম এখানে আরাধনা শুরু করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘকাল সাধু-সন্ন্যাসীরা এই পূজার দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে এটি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বারা সর্বজনীন রূপে পরিচালিত হয়। পূজার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য
৫০০ বছরের প্রাচীন কাঠামো: এই পূজার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো একই কাঠের কাঠামোতে প্রতি বছর দেবীর প্রতিসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতা: পূজার দিনগুলিতে বন্দর এলাকার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখার মতো হয়। মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি ঘরে উনুন জ্বলে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ মণ্ডপ প্রাঙ্গণেই একসঙ্গে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন।
কালের নিয়মে আগেকার চার দিনের জাঁকজমকপূর্ণ মেলা বা ঐতিহ্যবাহী যাত্রাভিনয়ের আসর এখনr কিছুটা স্তিমিত হলেও, রায়গঞ্জ বন্দর আদি দুর্গাপূজা কমিটির পরিচালনায় পূজার আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, নিয়মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আজও একটুও কমেনি। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই পুজো দেখতে প্রতি বছর মালদহ, শিলিগুড়ি ও দুই দিনাজপুর থেকে বহু দর্শনার্থী ভিড় জমান।