হিলিতে থানার সামনেই মৃত্যু ফাঁদ! বেপরোয়া লরির চাকায় পিষ্ট যুবক, পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

0
30

বালুরঘাট, ২৫ ফেব্রুয়ারী —হিলি থানার সামনেই ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক তরতাজা যুবকের। বুধবার বিকেলে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে। ঘাতক লরির চালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ লরিটিকে আটক করেছে। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হিলি থানার পশ্চিম আপ্তৈর গ্রামের বাসিন্দা সমীর হেমরম (২৪) ও কৃষাণ রায় (২৫) এদিন দুপুরে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন করতে হিলি বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। বিকেলে ফর্ম জমা দিয়ে স্কুটিতে করে বাড়ি ফেরার সময় হিলি থানার মূল গেটের সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বাংলাদেশগামী একটি পণ্যবোঝাই লরি হঠাৎ ধাক্কা মারলে স্কুটি চালক কৃষাণ রায় ছিটকে পড়েন। পিছনে বসা সমীর হেমরম লরির চাকায় পিষ্ট হন।
স্থানীয় ও পুলিশকর্মীরা দ্রুত দুই যুবককে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সমীরকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় কৃষাণকে। ঘটনার পর মুহূর্তেই থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ, জাতীয় সড়কের হিলিগামী লেন দীর্ঘদিন ধরেই পণ্যবোঝাই লরির দখলে থাকায় যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। অনেকের দাবি, উল্টো লেন ধরে বেপরোয়া গতিতে লরি চলাচলই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এপ্রসঙ্গে স্থানীয় এক বাসিন্দা মৃন্ময় লাহা বলেন, রাস্তার একইদিক থেকে লরুলি ও বাইকটি আসছিল। তখন লরিটির ধাক্কা খেয়ে বাইকটি চাকার নিচে ঢুকে যায়। তাতেই বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের বাবা লিপলাল হেমরম জানান, বাড়ির প্রকল্পের আবেদন করতে গিয়ে আর ফেরেনি তাঁর ছেলে। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক চালকের খোঁজ চলছে।
দুর্ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—থানার সামনেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কতটা সুরক্ষিত?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here