স্টার সংবাদের খবরের পরেই কড়া পুলিশ! থানার সামনে ডিজে বাজাতেই আটকাল বিসর্জনের শোভাযাত্রা
বালুরঘাট: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজের দাপট, আর তা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত থানার সামনেই ডিজে বন্ধ করে কড়া পদক্ষেপ করল বালুরঘাট থানার পুলিশ। শুক্রবার দশমীর সন্ধ্যায় চকভৃগুর একটি ক্লাবের বিসর্জনের শোভাযাত্রা আটকে দেন আইসি সুমন্ত বিশ্বাস। আটক করা হয় ডিজের যাবতীয় সরঞ্জাম-সহ এক জনকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানামোড় এলাকায় ছড়ায় উত্তেজনা। স্টার সংবাদের প্রতিবেদনে শব্দদূষণ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে শহরে।
পুজোর আগে শব্দদূষণ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুজোয় কোনও ভাবেই ডিজে বাজানো চলবে না। কিন্তু দশমীর বিসর্জনে সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হল, তা নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। অভিযোগ, শহরের একাধিক শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে ডিজে বাজিয়ে চলে উদ্দাম নাচ। শব্দের দাপটে কার্যত চাপা পড়ে যায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা।
বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল আরও একটি বিষয়। অভিযোগ, থানার সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা যাওয়ার সময়েও ডিজে বাজানো হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে ‘ভারত কা বাচ্চা বাচ্চা’ এবং ‘জয় জয় শ্রীরাম’-এর মতো গান বাজানো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ডিজে বাজিয়ে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠলেও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে সরব হন পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই আবহে স্টার সংবাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কড়া অবস্থান নেয় বালুরঘাট থানার পুলিশ। থানার সামনে দিয়ে ডিজে বাজিয়ে যাওয়ার সময় চকভৃগুর ওই ক্লাবের শোভাযাত্রা আটকে দেওয়া হয়। বন্ধ করা হয় ডিজে, আটক করা হয় সরঞ্জাম এবং এক জনকে।
তবে এই পদক্ষেপের পরেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শব্দদূষণ রুখতে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা কি এবার বাস্তবে কার্যকর হবে? উৎসবের আনন্দের আড়ালে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা রুখতে প্রশাসন কতটা ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর বালুরঘাটবাসীর।






















