রেশন ডিলারশিপে বড় দুর্নীতির অভিযোগ,জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের আঙুল, স্ত্রী “মমতার” নামে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরগরম হরিরামপুর
শীতল চক্রবর্তী হরিরামপুর ১৬মে,দক্ষিণ দিনাজপুর:-
তৃণমূল সরকারের আমলে ফের রেশন ডিলারশিপ নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। এবার অভিযোগের তীর সরাসরি জেলা পরিষদের এক কর্মাধ্যক্ষের দিকে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রী “মমতার” নামে রেশন ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হরিরামপুর ব্লকের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ খগেশ্বর দেবশর্মার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিরামপুর ব্লকের গোকর্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিপুর এলাকায়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চন্ডিপুর গ্রামের রেশন ডিলারশিপের জন্য প্রশাসনের তরফে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয় বহু যুবক ও বাসিন্দা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই ডিলারশিপ খগেশ্বর দেবশর্মার স্ত্রী” মমতা” দেবশর্মার নামে অনুমোদন করা হয়েছে। আর এই ঘটনাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, “গ্রামের রেশন দোকান গ্রামের মানুষেরই প্রাপ্য।অথচ অন্য এলাকার প্রভাবশালী নেতার স্ত্রী কীভাবে সেই ডিলারশিপ পেলেন,সেটাই বড় প্রশ্ন। সাধারণ গরিব মানুষজন আবেদন করেও সুযোগ পেল না,অথচ ক্ষমতার জোরে ডিলারশিপ চলে গেল নেতার বাড়িতে।”
অভিযোগকারী গ্রামবাসী আখতার আলী,সাদ্দাম হোসেন ও সাইফুল ইসলামদের অভিযোগ,“ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বউ মমতার নামে রেশন ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। এই ডিলারশিপ অবিলম্বে বাতিল করে প্রকৃত যোগ্য ও গরিব মানুষকে দিতে হবে।”
শুধু ডিলারশিপ নিয়েই নয়, ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ,এলাকায় সরকারি প্রকল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের রাজনীতি চলছে।সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার জেরে প্রশাসনিক মহলেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হরিরামপুর ব্লকের বিডিও অত্রি চক্রবর্তী বলেন,“বিষয়টি শুনেছি, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।”। গঙ্গারামপুর মহকুমা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক জানান,“লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ খগেশ্বর দেবশর্মা।তিনি বলেন,“সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আমার স্ত্রী “মমতা”রেশন ডিলারশিপ পেয়েছেন। এখানে কোনও অনিয়ম হয়নি।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই অভিযোগ করা হচ্ছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। এখন প্রশাসনের তদন্তে কী উঠে আসে এবং শেষ পর্যন্ত রেশন ডিলারশিপ বহাল থাকে নাকি বাতিল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা চন্ডিপুর গ্রামের মানুষ।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর রেশন ডিলারশিপে বড় দুর্নীতির অভিযোগ,জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের আঙুল






















