নৈহাটির বড়মাকে শিলিগুড়ির মাটিতে রূপ দিচ্ছেন শিল্পী অধীর পাল,২৮ফুটের প্রতিমায় ফুটে উঠছে ভক্তি ও আবেগ

0
32

নৈহাটির বড়মাকে শিলিগুড়ির মাটিতে রূপ দিচ্ছেন শিল্পী অধীর পাল,২৮ফুটের প্রতিমায় ফুটে উঠছে ভক্তি ও আবেগ

শিলিগুড়ি:-

নৈহাটির বড়মার দর্শন পেতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।সেই বড়মার প্রতিমাকেই এবার নিজের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় শিলিগুড়ির মাটিতে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী অধীর পাল।কোনও বাণিজ্যিক ভাবনা নয়, বরং মায়ের প্রতি গভীর বিশ্বাস,শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই বছরের পর বছর এই কাজ করে আসছেন তিনি।শিলিগুড়ির মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের কালীপুজোয় এবার চতুর্থবারের জন্য তৈরি হচ্ছে নৈহাটির বড়মার আদলে বিশালাকার প্রতিমা।গত তিন বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্ব রয়েছে অধীর পালের কাঁধে।তবে এবার প্রতিমার আকার আরও বড় করা হয়েছে।প্রতিমার উচ্চতা ২৩ফুট।চূড়া-সহ তা প্রায় ২৮ফুট।মায়ের এই বিশালাকার মূর্তি দেখতে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।শুধু প্রতিমার আদলেই নয়, পুজোর রীতিনীতিতেও নৈহাটির বড়মার ঐতিহ্য অনুসরণের চেষ্টা করছে পুজো কমিটি।সেই উদ্দেশ্যে পুরোহিত নিজে নৈহাটিতে গিয়ে পুজোর পদ্ধতি ও নিয়মকানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এসেছেন।পুজোর বিশেষ আকর্ষণ রাত ১২টা নাগাদ শুরু হওয়া মায়ের আরাধনা।টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এই বিশেষ পুজো। মাকে নিবেদন করা হয় সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ।এবছর মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের কালীপুজো ৪৭তম বর্ষে পদার্পণ করছে।আগামী ৭তারিখ পুজোর উদ্বোধন এবং ৮তারিখ রাতে অনুষ্ঠিত হবে মায়ের বিশেষ আরাধনা।পুজোর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ক্লাবের সম্পাদক অভিজিৎ সেন জানান,গত তিন বছর ধরে নৈহাটির বড়মার আদলে প্রতিমা তৈরি করে একই রীতি মেনে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।এবছর প্রতিমার উচ্চতা আরও বাড়ানো হয়েছে।দর্শনার্থীদের সম্ভাব্য ভিড়ের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।শিলিগুড়ির মানুষ যাতে নৈহাটির বড়মার পুজোর আবহ ও ঐতিহ্য কাছ থেকেই অনুভব করতে পারেন,সেটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন শিল্পী অধীর পাল।একসময় নিয়মিত প্রতিমা নির্মাণ করলেও বর্তমানে তিনি আর সাধারণ প্রতিমা তৈরির কাজ করেন না।সারা বছর ফাইবার গ্লাসের স্ট্যাচু এবং পর্যটন দফতরের বিভিন্ন শিল্পকর্ম নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত থাকেন।কিন্তু বড়মার প্রতিমা তৈরির সুযোগ এলেই সমস্ত ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে কাজে নেমে পড়েন তিনি।তাঁর কাছে এই কাজ নিছক পেশা নয়,বরং মায়ের প্রতি এক আত্মিক টান।অধীর পালের কথায়,যে মায়ের দর্শন পেতে মানুষ এত দূর থেকে নৈহাটিতে ছুটে যান,সেই মাকে নিজের হাতে তৈরি করতে পারা তাঁর কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।প্রথম বছর থেকেই সম্পূর্ণ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই কাজ করে আসছেন তিনি।তবে বর্তমান সময়ে মৃৎশিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন শিল্পী।তাঁর মতে,সামাজিক ও মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।ফলে আগামী দিনে শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও শিল্পী ও শিল্পসৃষ্টির ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।এমনকি বড়মার প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বও ভবিষ্যতে অন্য কারও হাতে যেতে পারে।তবে যতদিন তাঁর হাতে এই দায়িত্ব থাকবে,ততদিন একই নিষ্ঠা,আবেগ ও ভক্তি নিয়ে বড়মার প্রতিমা গড়ে যেতে চান অধীর পাল।আর সেই শিল্পীর হাত ধরেই নৈহাটির বড়মার রূপ এবারও ধরা দেবে শিলিগুড়িতে।২৮ ফুটের বিশাল প্রতিমা,বিশেষ পুজোর আয়োজন এবং শিল্পীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ-সব মিলিয়ে মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের কালীপুজোয় এবার অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বড়মার দর্শন।