২১ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে দুর্গেশ, শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও স্কুলের হাল ফেরানোর চ্যালেঞ্জ প্রথম দিনেই

0
19

২১ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে দুর্গেশ, শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও স্কুলের হাল ফেরানোর চ্যালেঞ্জ প্রথম দিনেই

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৪ অক্টোবর —- প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন দুর্গেশ চন্দ্র দেবনাথ। অতীতে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগ, স্কুলের পরিকাঠামোগত ঘাটতি এবং পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যার আবহে নতুন চেয়ারম্যানের সামনে এখন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জ। বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্গেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এল শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং সংসদের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি।

এ দিন সকালে স্কুটিতে চেপে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের দফতরে পৌঁছান দুর্গেশ। মনীষীদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর হাতে দায়িত্বভার তুলে দেন ডিআই (মাধ্যমিক) সুজয় কৃষ্ণ মহন্ত। দীর্ঘদিন পর কোনও প্রাথমিক শিক্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায় জেলার শিক্ষক মহলে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

প্রায় ২১ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দুর্গেশের অন্যতম ভরসা। স্কুলের ভিতরের সমস্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভাব-অভিযোগ এবং পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। তবে দায়িত্ব নিয়েই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং সংসদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করার পথেই হাঁটতে চাইছেন নতুন চেয়ারম্যান।

দুর্গেশ বলেন, আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় সংগঠনের কাছে কৃতজ্ঞ। দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নই আমার লক্ষ্য। পাশাপাশি, সমস্ত কাজ যাতে স্বচ্ছ ভাবে হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে অবশ্য চ্যালেঞ্জ কম নয়। শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ঘিরে অতীতে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। পাশাপাশি, পরিকাঠামোগত অভাব এবং পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ায় জেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে শুধু প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা নয়, স্কুলগুলির বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং পঠনপাঠনের পরিবেশ উন্নত করাও নতুন চেয়ারম্যানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্য দিকে, সুজয় কৃষ্ণ মহন্ত জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্বতন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। নতুন চেয়ারম্যানকে সংসদের যাবতীয় কাজকর্ম ও কার্যপদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসদের কাজকর্ম মসৃণ ভাবে পরিচালনা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেননি দুর্গেশ। আগে পরিস্থিতি বুঝে, তার পর পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, ২১ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেন নতুন চেয়ারম্যান।