চটের বস্তায় রাজস্থানের ছোঁয়া, নবম শ্রেণির পড়ুয়ার হাতের দুর্গা তাক লাগাল বালুরঘাটকে! খুদে শিল্পীর প্রতিভায় মুগ্ধ পাড়া-প্রতিবেশীরা

0
5

চটের বস্তায় রাজস্থানের ছোঁয়া, নবম শ্রেণির পড়ুয়ার হাতের দুর্গা তাক লাগাল বালুরঘাটকে! খুদে শিল্পীর প্রতিভায় মুগ্ধ পাড়া-প্রতিবেশীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ১৪ অক্টোবর —- বয়সে কিশোর, অথচ হাতের কাজে পরিণত শিল্পীর ছাপ! চটের বস্তার উপরে একের পর এক সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে রাজস্থানী মডেলের দুর্গাপ্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বালুরঘাটের নবম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণকিঙ্কর মহন্ত। প্রায় এক মাসের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি তার সেই শিল্পকর্ম ঘিরে এখন কৌতূহল মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। ললিত মোহন আদর্শ স্কুলের এই পড়ুয়ার প্রতিভায় বিস্মিত পরিবারের সদস্য থেকে প্রতিবেশীরা। এ বার জীবনে প্রথম বার প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব নিয়েই নজর কেড়েছে সে।

বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণকিঙ্করের হাতেখড়ি অবশ্য অনেক আগেই। পড়াশোনার ফাঁকে বাড়িতে বসে ছোট ছোট মূর্তি তৈরি করত সে। সেই শখই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে শিল্পচর্চায়। এ বার তার হাতেই দুর্গাপ্রতিমা গড়ার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ৫৬ বছরের পুরনো স্থানীয় অরবিন্দ সংঘ। ক্লাবের সেই আস্থার মর্যাদা দিতে দিদি সঞ্চিতা মহন্তকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে দিনরাত এক করে কাজ করেছে কিশোর শিল্পী। চটের বস্তার উপর ফুটিয়ে তুলেছে রাজস্থানী মডেলের দুর্গার নানা নকশা ও কারুকাজ।

কৃষ্ণকিঙ্করের দিদি সঞ্চিতা বলেন, ছোট থেকেই ভাইয়ের মাটি দিয়ে মূর্তি তৈরির প্রতি আলাদা টান ছিল। পড়াশোনার ফাঁকে বাড়িতে বসেই নানা ধরনের ছোট মূর্তি তৈরি করত। সেগুলি দেখে আমরা অবাক হতাম। এ বার প্রথম বার এত বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। ওর কাজে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছি।

কৃষ্ণকিঙ্করের কথায়, ছোট থেকেই প্রতিমা তৈরির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই ইচ্ছা থেকেই প্রথম বার বড় মাপের দুর্গাপ্রতিমা গড়ার কাজে হাত দিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি চলছে শিল্পচর্চা। ভবিষ্যতে আরও বড় মাপের এবং আরও নিখুঁত কাজ করাই তার লক্ষ্য।

প্রথম প্রতিমা গড়ার অভিজ্ঞতা, পুজো কমিটির আস্থা আর এক কিশোরের শিল্পী হয়ে ওঠার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এ বার বালুরঘাটের অরবিন্দ সংঘের দুর্গাপ্রতিমাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি যে হাত শিল্পের ভাষায় নিজের পরিচয় গড়তে পারে, কৃষ্ণকিঙ্করের উদ্যোগ যেন সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত।