পুজোর মুখে রুজি কেড়ে নিল সেচ দফতর! সাত বছর কাজের পর এক ধাক্কায় ছাঁটাই ১১ নিরাপত্তারক্ষী, কান্নায় ভাঙল বাঁধ

0
35

পুজোর মুখে রুজি কেড়ে নিল সেচ দফতর! সাত বছর কাজের পর এক ধাক্কায় ছাঁটাই ১১ নিরাপত্তারক্ষী, কান্নায় ভাঙল বাঁধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ১৪ অক্টোবর —– এক দিকে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রস্তুতি, অন্য দিকে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় চোখের জল! পুজোর মুখে সাত বছর ধরে করে আসা কাজ হারিয়ে কার্যত অথৈ জলে পড়লেন ১১ জন অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী। বুধবার বালুরঘাটের সেচ দফতরের নির্বাহী বাস্তুকারের কার্যালয়ে কাজ হারানোর খবর সামনে আসতেই ভেঙে পড়েন তাঁরা। উৎসবের আগে আচমকা কর্মহীন হয়ে পড়ায় কী ভাবে সংসার চলবে, কোথা থেকে আসবে পুজোর খরচ—সেই অনিশ্চয়তাই এখন গ্রাস করেছে তাঁদের।

বালুরঘাটের পুলিশ লাইন এলাকায় সেচ দফতরের ওই কার্যালয়ে ২০১৯ সাল থেকে একটি বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছিলেন ১১ জন যুবক। মাসে আট থেকে ন’হাজার টাকা বেতনে দীর্ঘ সাত বছর ধরে দায়িত্ব সামলেছেন তাঁরা। সেই কাজের উপরেই নির্ভরশীল ছিল তাঁদের পরিবার। কিন্তু পুজোর ঠিক আগে কাজ হারানোর ঘটনায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁদের রোজগারের পথ।

কর্মীদের অভিযোগ, গত প্রায় সাত মাস ধরে তাঁরা বেতন পাননি। তার মধ্যেই বুধবার তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। দীর্ঘদিন কাজ করেও বকেয়া বেতন না পাওয়া এবং উৎসবের আগে কর্মহীন হয়ে পড়ার জোড়া ধাক্কায় দিশাহারা তাঁরা। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে পুজোর ন্যূনতম খরচ—সব কিছু নিয়েই এখন গভীর দুশ্চিন্তা।

নিরাপত্তারক্ষী মনজিত সিং ও অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, সাত বছর ধরে এই দফতরে কাজ করছি। পুজোর মুখে আমাদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হল। প্রায় সাত মাস বেতনও পাইনি। এখন পরিবার নিয়ে কী ভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।

অন্য দিকে, সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সৌম্য ভট্টাচার্য জানান, যে এজেন্সির মাধ্যমে ওই নিরাপত্তারক্ষীরা কাজ করতেন, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন এজেন্সিগুলি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তাদের মাধ্যমেই নিরাপত্তারক্ষী নেওয়া হবে।
তবে নতুন এজেন্সির মাধ্যমে ওই ১১ জন ফের কাজের সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুজোর আগে তাঁদের কর্মসংস্থান এবং অভিযোগ অনুযায়ী বকেয়া বেতনের কী সুরাহা হয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে কর্মীরা। উৎসবের প্রাক্কালে তাঁদের কাছে আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার লড়াই।