যুব সংসদের আসরেই অধ্যাপকদের হাতাহাতি! পক্ষপাত-এর অভিযোগে ধুন্ধুমার কান্ড হিলি কলেজে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্নের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া

0
48

যুব সংসদের আসরেই অধ্যাপকদের হাতাহাতি! পক্ষপাত-এর অভিযোগে ধুন্ধুমার কান্ড হিলি কলেজে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্নের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া

বালুরঘাট, ২৬ সেপ্টেম্বর —-ছাত্রছাত্রীদের সামনে মঞ্চে চলছিল যুব সংসদ প্রতিযোগিতা। আর সেই মঞ্চের বাইরে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। প্রতিযোগিতার ফলাফল ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে পক্ষপাত-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে অধ্যাপকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠল। হিলি গভর্নমেন্ট কলেজের এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। অধ্যাপক থেকে পড়ুয়া—একাংশের প্রশ্ন, সংসদীয় গণতন্ত্রের পাঠ দিতে গিয়ে শিক্ষকরা যদি নিজেরাই প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তা হলে পড়ুয়াদের কাছে এর বার্তা কী?

শুক্রবার হিলি গভর্নমেন্ট কলেজে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুরের ডিস্ট্রিক্ট লেভেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান পায় হিলি গভর্নমেন্ট কলেজ। দ্বিতীয় গঙ্গারামপুর কলেজ এবং তৃতীয় বালুরঘাট কোয়েড কলেজ। প্রথম স্থানাধিকারীকে ৬০ হাজার, দ্বিতীয়কে ৪০ হাজার এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা।

অভিযোগ চুড়ান্ত পর্যায়ের ওই প্রতিযোগীতার প্রথম থেকেই একাধিক অনিয়ম সামনে আসে। কিন্তু তারপরেও অযোগ্যরা তালিকা থেকে বাদ যায়নি। উলটে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে এমনই অভিযোগ একাংশ অধ্যাপক ও ছাত্র ছাত্রীদের। যা নিয়ে ওইদিন যুব সংসদ প্রতিযোগিতা চলাকালীন অবস্থায় এক অধ্যাপক প্রতিবাদ করলে তাকে ধাক্কাধাক্কি করেন অনান্য অধ্যাপকরা, যা হাতাহাতি পর্যায়েও পৌঁছায়। যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় কলেজ চত্বরে। যার ভিডিও ভাইরাল হতেই রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। কলেজ ছাত্র ছাত্রীদের একটি প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠানে যদি অধ্যাপকরা এমনভাবে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয় তবে ছাত্র ছাত্রীরা কি শিখবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, যুব সংসদ প্রতিযোগিতার মতো একটি বিষয় নিয়ে যদি অধ্যাপকরাই নিয়ম বহির্ভূতভাবে অযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করতে মাঠে নামে তাহলে তা কিভাবে শিক্ষনীয় হয়ে উঠবে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আর যেসব একাধিক প্রশ্ন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে কলেজের একাংশ ছাত্র ছাত্রী থেকে অধ্যাপকরা।

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। রাহুল মাইতি নামে এক লাইব্রেরিয়ান লিখেছেন, জাজ কিনে প্রথমবারের জন্য হিলি কলেজ ইয়ুথ পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।অভিনন্দন আপনাদের। দেখি দক্ষিণ দিনাজপুরকে পরের স্টেজে আপনারা কোথায় নিয়ে যান।

কলেজের ছাত্র বিশ্বজিৎ-এর অভিযোগ, এরকম ধৃতরাষ্ট্রের মতো বিচার আগে দেখিনি। প্রতিবাদ করায় একজন অধ্যাপক আরেকজন অধ্যাপককে মারছেন। যাঁরা নিয়ম, ভাষা, শব্দ কিছুই জানেন না, সরকারি গাইডলাইনও ফলো করেন না, তাঁরাই চ্যাম্পিয়ন হচ্ছেন।

অন্য কলেজের অধ্যাপকের অভিযোগেও উঠেছে নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন। বালুরঘাট গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাহুল পাণ্ডা বলেন, গঙ্গারামপুর কলেজের দল ৪৫ মিনিটের স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে পরিবেশন করেছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিবেশন প্রতিযোগিতার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি হিলি কলেজের পরিবেশনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে হিলি কলেজ প্রায় ৩৬ মিনিট পরিবেশন করেছে। পুরো বিষয়টি জেলাশাসকের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ কোনও জায়গায় এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ মানতে নারাজ হিলি গভর্নমেন্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অফিসার ইন চার্জ কৌশিক মাঝি বলেন, বহিরাগত বিচারকদের দিয়েই যুব সংসদ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের বিচার হয়েছে। অনিয়ম বা বেনিয়মের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

ফলে একদিকে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে অধ্যাপকদের হাতাহাতির ভিডিও—দুই ঘটনাকে ঘিরেই এখন উত্তপ্ত হিলি কলেজ। প্রতিযোগিতার নিয়ম আদৌ ভাঙা হয়েছিল কি না, বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনও পক্ষপাত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠতে থাকা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জোরালো হচ্ছে।