ডাক্তারি স্বপ্নে জুতো-জট! খালি পায়ে নিট পরীক্ষা, জুতো হাতে বালুরঘাটের রাস্তায় ঘুরলেন অভিভাবকেরা
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ জুন —- রবিবারের নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বালুরঘাটে তৈরি হল তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, পরীক্ষার নিয়মের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের খালি পায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আর সেই কারণেই দিনভর হাতে জুতো নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেল বহু অভিভাবককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় বালুরঘাটের নালন্দা বিদ্যাপীঠ-সহ শহরের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে।
এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু পরীক্ষার্থী নিট দিতে বালুরঘাটে আসেন। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখেই শুরু হয় বিপত্তি। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষার নির্দেশিকায় বুট বা ভারী জুতো পরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চপ্পল বা সাধারণ স্যান্ডেল পরে আসা পরীক্ষার্থীদেরও জুতো খুলে রাখতে বলা হয়। ফলে বহু পরীক্ষার্থীকে খালি পায়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষা দিতে হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্তরের পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপে ফেলে। তার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার্থীদের জুতো নিরাপদে রাখার কোনও ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ। ফলে অভিভাবকদেরই সেই জুতো হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে কেন্দ্রের বাইরে।
অভিভাবক পার্থ বোস ও মৃদুল গোস্বামীর বক্তব্য, নিট-সহ প্রায় সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেই বুট জাতীয় জুতো নিষিদ্ধ। কিন্তু সাধারণ চপ্পল পরে আসা পরীক্ষার্থীদেরও খালি পায়ে ঢুকতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এতে পরীক্ষার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা আরও বেড়েছে।
পরীক্ষার্থী অনির্বাণ সরকার জানায়, নিয়ম মেনেই জুতো পরে এসেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে ঢোকার আগে তা খুলে রাখতে বলা হয়। খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস নেই। পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি অস্বস্তিকর ছিল।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নালন্দা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সৌমিত দাস। তাঁর দাবি, স্কুল কোনও নিজস্ব নিয়ম চালু করেনি। নিট পরীক্ষার জন্য যে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, সেই নিয়মই কার্যকর করা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে স্কুলের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরীক্ষা শেষ হলেও ‘জুতো-কাণ্ড’ ঘিরে বিতর্ক থামেনি। অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্ন, পরীক্ষার নিরাপত্তা বজায় রাখার নামে পরীক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি করা হলে তার দায় নেবে কে?























