সিধু-কানুর হাত ভাঙতেই জ্বলে উঠল দেউরিয়া, রণক্ষেত্র বংশীহারি! আতঙ্কে রাত কাটাল বাসিন্দারা

0
129

সিধু-কানুর হাত ভাঙতেই জ্বলে উঠল দেউরিয়া, রণক্ষেত্র বংশীহারি! আতঙ্কে রাত কাটাল বাসিন্দারা

বালুরঘাট, ১০ মে —- রাতের অন্ধকারে সিধু-কানুর মূর্তির হাত ভাঙার অভিযোগ। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের গাঙুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দেউরিয়া এলাকা। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা আদিবাসীদের একাংশের তাণ্ডবে ভাঙচুর হল একাধিক দোকান ও রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়। যাকে ঘিরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নতুন করে অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। রবিবারও গোটা এলাকা জুড়ে ছিল চাপা উত্তেজনা, আতঙ্ক আর গুঞ্জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর চলছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহের মাঝেই শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে সিধু-কানুর মূর্তির একটি হাত ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। অভিযোগ, এরপরই উত্তেজিত জনতার একাংশ লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে গোটা দেউরিয়া।
ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান পুলিশ আধিকারিকরা। বর্তমানে এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রবিবার ঘটনাস্থলে যান বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আদিবাসী সংগঠনের নেতা মনোজ চরে বলেন, “সিধু-কানু শুধুমাত্র একটি নাম নয়, আদিবাসী সমাজের আত্মসম্মানের প্রতীক। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মীরাম মুর্মু বলেন, “মূর্তির হাত ভাঙার খবর ছড়াতেই মানুষের রাগ বিস্ফোরিত হয়। এলাকায় যা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”