মেধার আলোয় ঝলমল দক্ষিণ দিনাজপুর!

0
43

মেধার আলোয় ঝলমল দক্ষিণ দিনাজপুর!
রাজ্যের মেধাতালিকায় বালুরঘাট–কুমারগঞ্জের তিন কৃতীর দুরন্ত সাফল্য, আনন্দে ভাসছে গোটা জেলা

বালুরঘাট, ৮ মে —- মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিনটা এ বার যেন উৎসবের দিন হয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরে। রাজ্যের মেধাতালিকায় একসঙ্গে তিন ছাত্রের নজরকাড়া সাফল্যে গর্বে বুক ভরল বালুরঘাট ও কুমারগঞ্জের মানুষের। কোথাও মিষ্টিমুখ, কোথাও মিষ্টি বিলিয়ে উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও কৃতী ছাত্রদের একঝলক দেখতেই ভিড় জমালেন প্রতিবেশীরা। জেলার শিক্ষামহলেও এখন একটাই আলোচনা— অনরন্য, আয়ুষ ও জিশানের অসাধারণ সাফল্য।
চকভৃগু ময়ামাড়ি এলাকার ছাত্র অনরন্য সরকার এবারের মাধ্যমিকে ৬৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। বালুরঘাট হাই স্কুলের এই ছাত্রের সাফল্যে কার্যত খুশির জোয়ার নেমেছে পরিবার থেকে স্কুল, সর্বত্র। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল অদম্য আগ্রহ। নিয়মিত পড়াশোনা, প্রতিটি বিষয় আলাদা করে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে অনরন্য। শুধু পড়াশোনা নয়, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সমান আগ্রহ তার। আগে অঙ্কন করলেও বর্তমানে অবসর সময়ে গিটার বাজানো শেখে সে। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করাই এখন তার স্বপ্ন। অনরন্যর বাবা পেশায় শিক্ষক এবং মা গৃহবধূ।
একইসঙ্গে জেলার গর্ব বাড়িয়েছে বালুরঘাট হাই স্কুলেরই ছাত্র আয়ুষ সাহা। ৬৯৩ নম্বর পেয়ে সেও রাজ্যের মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা, নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছে আয়ুষ। তার বাবা বেসরকারি কর্মী এবং মা বেসরকারি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখছে সে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ছোট থেকেই অত্যন্ত শান্ত ও মনোযোগী ছাত্র আয়ুষ।
এদিকে কুমারগঞ্জ হাইস্কুলের ছাত্র জিশান হোসেন ৬৯০ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করে জেলার সাফল্যের মুকুটে আরও এক পালক যোগ করেছে। বরাবরই মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত জিশানের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে গোটা কুমারগঞ্জ।
একসঙ্গে তিন ছাত্রের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে যেন নতুন করে শিক্ষার মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুর। জেলার মানুষ এখন গর্ব করেই বলছেন, মেধার লড়াইয়ে এবারও নিজেদের আলাদা করে চিনিয়ে দিল বালুরঘাট ও কুমারগঞ্জের ছাত্ররা।