পরকিয়ার ছায়া না পারিবারিক কলহ! হরিবাসর থেকে ফিরেই রক্তাক্ত মৃত্যু যুবকের, গ্রেফতার স্ত্রী

0
102

পরকিয়ার ছায়া না পারিবারিক কলহ! হরিবাসর থেকে ফিরেই রক্তাক্ত মৃত্যু যুবকের, গ্রেফতার স্ত্রী

বালুরঘাট, ১৩ এপ্রিল —– দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এক রহস্যঘেরা খুনকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। রবিবার রাতে উত্তর কুমারগঞ্জে হরিবাসর থেকে বাড়ি ফেরার পরই নৃশংসভাবে খুন হলেন ৩১ বছরের সুজিত দাস। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা দাসকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতে গ্রামের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে কিছুটা আগেই বাড়ি ফেরেন সুজিত ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, বাড়িতেই অতর্কিতে স্বামীর উপর হামলা চালান কৃষ্ণা। সুজিতের হাত গামছা দিয়ে বেঁধে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৫০ মিটার দৌড়ে সাহায্য চাইতে চেষ্টা করেন সুজিত। কিন্তু গুরুতর আঘাতে তিনি রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গলার মারাত্মক আঘাতের কারণে চিৎকারও করতে পারেননি তিনি।
ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন সুজিতের বাবা অজিত দাস। তবে শ্রবণ সমস্যার কারণে কিছুই টের পাননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে মা লক্ষ্মী দাস অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ছেলের রক্তাক্ত দেহ দেখে ভেঙে পড়েন।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় কৃষ্ণাকে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিত মিললেও, স্থানীয়দের একাংশের দাবি—এই খুনের নেপথ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।

মৃতের ভাই সজীব দাস জানিয়েছেন, “দাদা-বৌদি একসঙ্গে বাড়ি ফিরেছিল। পরে শুনি দাদাকে খুন করা হয়েছে। বৌদি নিজেই দোষ স্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের দাদা গোপাল দাস বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কুমারগঞ্জ থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিবাদের জেরেই খুন বলে মনে হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। রহস্যের জট খুলতে এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সকলে।