৫৫ লক্ষেরও বেশি টাকার মাদক উদ্ধার, জেলাজুড়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার সাত।
নিজস্ব সংবাদদাতা,৩ নভেম্বর, বালুরঘাট:- মাদক কারবারের বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযানে বড়সড় সাফল্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। একদিনের অভিযানে ৫৫ লক্ষ টাকারও বেশি বাজারমূল্যের ব্রাউন সুগার ও কোডিন বেসড কাফ সিরাপ উদ্ধার করল পুলিশ। বিভিন্ন থানা এলাকার অভিযান চালিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫২৩ গ্রাম ব্রাউন সুগার এবং ৩২৫ বোতল কাফ সিরাপ। সোমবার বালুরঘাটে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সাফল্যের কথা জানান পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে গত ৩১ অক্টোবর থেকে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ স্পেশাল অ্যান্টি ড্রাগ উইক মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক পাচার ও অবৈধ কারবারের শিকড় উপড়ে ফেলতে বিভিন্ন থানা এলাকায় লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই কুমারগঞ্জ হিলি ও পতিরাম থানা এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়।কুমারগঞ্জ থানার দেওর এলাকা থেকে ৪১৪ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ শাহনাজ খাতুন বিবি নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমারগঞ্জের ডাঙ্গারহাট মামুদপুর এলাকা থেকে কুরবান আলী সরকার নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ১৮০ বোতল কোডিন বেসড কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। হিলি থানার দক্ষিণীপাড়া এলাকা থেকে ১৪৫ বোতল কাফ সিরাপ সহ সুরজিৎ বর্মনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও পতিরাম থানা ও জেলা এসওজি-র যৌথ অভিযানে বোল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ১০৯ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় দু’জন মহিলা সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মাদকের কালোবাজারি মূল্য ৫৫ লক্ষ টাকারও বেশি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা জানান শুধু মাদক উদ্ধার বা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেই অভিযান শেষ করতে চাইছে না জেলা পুলিশ। এই অবৈধ কারবারের পিছনে থাকা মূল চক্র মাদক সরবরাহের উৎস এবং পাচারের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করাই পুলিশের লক্ষ্য। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কারবারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য জড়িতদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তবে মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু আইনি পদক্ষেপ নয় মানবিক দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা পুলিশ। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ছয় মাসের ডি অ্যাডিকশন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একদিকে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অন্যদিকে নেশার কবলে পড়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এই দুই পথেই ড্রাগ ফ্রি দক্ষিণ দিনাজপুর গড়ার লক্ষ্যে এগোতে চাইছে জেলা পুলিশ। আগামী দিনেও এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।



















