অনাস্থার আঁচে অচল বালুরঘাট পুরসভা!
বেপাত্তা কাউন্সিলর, স্কলারশিপের কাগজের দাবিতে পুরসভা চত্বরে ক্ষোভ বাসিন্দার
বালুরঘাট, ২৪ ডিসেম্বর —– বালুরঘাট পুরসভায় অনাস্থা ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল নাগরিক জীবনে। ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব কার্যত পেছনের সারিতে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার বিকেলে সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে ফেটে পড়ে খোদ পুরসভা চত্বরে—দিনভর ঘুরেও কাজ না হওয়ায় নিজের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুললেন এক বাসিন্দা। যাকে ঘিরে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
২৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বালুরঘাট পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৩ জন এবং বামেদের ২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলেরই একাংশ। গত কয়েকদিন ধরে এই অনাস্থা ঘিরে শহরজুড়ে জল্পনা, চাপানউতোর ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে। কাউন্সিলরদের একাংশের অভিযোগ, অনাস্থা ইস্যুতে তাঁদের ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় কেউ কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ। যদিও শহর তৃণমূল সভাপতি সুভাষ চাকি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, এটি দলের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা নিয়ে আলোচনার জন্যই পুলিশ সুপারের কাছে যাওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যাই থাকুক, বাস্তবে যে নাগরিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
বুধবার তারই প্রকট ছবি ধরা পড়ে পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। দিনভর হয়রানির শিকার হয়ে এক বাসিন্দা পুরসভায় দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ, মেয়ের স্কলারশিপের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ইনকাম সার্টিফিকেট ও রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিতে সকাল থেকে পুরসভায় ঘুরছেন তিনি। বিকেল গড়ালেও কাজ হয়নি। সামনে বড়দিনের ছুটি—আজই শেষ দিন। কাগজ না পেলে স্কলারশিপের আবেদন অনিশ্চিত। আর যা নিয়েই চরম হয়রানির মুখে পড়েছেন তারা।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বসাক জানান, তাঁর মেয়ে আদর্শ স্কুলের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। নবান্ন স্কলারশিপের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া জরুরি। কিন্তু ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনও খোঁজ মিলছে না। “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি একটা কাগজের জন্য। এখানে কোনও প্রশাসন নেই, নিয়ম নেই—যা খুশি তাই চলছে,” ক্ষোভে উগড়ে দিয়ে বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে পুর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা নীতা নন্দি জানান, ইনকাম ও রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদেরই। চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় তাঁরা নিজেরা পুরসভায় এসে পরিষেবা দিচ্ছেন। তবে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কোথায় রয়েছেন বা কী কারণে অনুপস্থিত, সে বিষয়ে তাঁর কাছেও কোনও তথ্য নেই।
অনাস্থার রাজনীতিতে পুরসভা যেন পরিণত হয়েছে এক অচল ব্যবস্থায়। প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের বলি কি তবে নাগরিক পরিষেবা? বালুরঘাটের মানুষ আজ সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিচ্ছেন প্রশাসনের দিকে।


























