ভোটের মুখে বালুরঘাটে ‘অনাস্থা-ঝড়’! গোপন সই ১৪ কাউন্সিলরের, নীরব দল
—চাঞ্চল্য শহর রাজনীতিতে
বালুরঘাট, ২০ ডিসেম্বর —- বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে বালুরঘাট পুরসভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ডাক—তাও গোপনে ১৪ জন কাউন্সিলরের সই নিয়ে। শনিবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শহর জুড়ে শুরু হয় জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভোটের আগে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল? যদিও এদিন সকাল থেকে নিজের বাড়িতে খোশমেজাজে থাকতেই দেখা গেছে চেয়ারম্যান অশোক মিত্র কে। শুধু তাই নয়, রোজকার মতো পুরসভাতেও হাজির হয়ে কর্মব্যস্ততার মধ্যেই দিন কাটিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে পুরভোটে শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিই তৃণমূল দখলে নেয়। ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হন অশোক মিত্র। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে ‘দণ্ডি কাণ্ড’-এর জেরে তাঁকে সরানো হয়। সেই থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ফাঁকা। লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের প্রেক্ষিতে রাজ্যজুড়ে একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান বদলের জল্পনা থাকলেও, বালুরঘাটে তেমন কোনও সরকারি নির্দেশ আসেনি বলেই দাবি দলের।
তবু আচমকাই ২৩ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জন অনাস্থার পক্ষে জোটবদ্ধ হয়ে মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হন বলে খবর। তবে কী কারণে এই অনাস্থা—তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি এখনও। আশ্চর্যের বিষয়, দল বা প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত চিঠি পাননি চেয়ারম্যান অশোক মিত্রও।
এ নিয়ে অশোক মিত্রের বক্তব্য, “কিছু মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এসব করছে। বিষয়টি দলকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দলগত বা প্রশাসনিক কোনও নির্দেশিকা এখনও পাইনি।
অন্যদিকে, টাউন তৃণমূল সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, “এই বিষয়ে রাজ্য বা জেলা স্তরের শীর্ষ নেতৃত্বই বলতে পারবেন। তবে দলের নির্দেশ ছাড়া এমন পদক্ষেপ সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বালুরঘাট পুরসভায় অনাস্থার গুঞ্জন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের রাজনীতি যে উত্তাল—তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকেই।


























