পারিবারিক জমি বিবাদের জেরে ভাইয়ের হাতে দাদা খুন

0
110

পারিবারিক জমি বিবাদের জেরে ভাইয়ের হাতে দাদা খুন, রক্তাক্ত তপনের নালিপাড়া,গুরুতর আহত আরও দুইজন, এলাকায় চরম উত্তেজনা
শীতল চক্রবর্তী তপন ১৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুর।
পারিবারিক জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ভাইয়ের হাতে দাদার খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার নালিপাড়া এলাকায়। শুক্রবার সকালেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও দুইজন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কাকাতো ভাইয়ের হাতে খুন হওয়া দাদার নাম করিম মিঞা (৪০)যুবকের। তাঁর বাড়ি তপন থানার নালিপাড়া এলাকায়। গুরুতর আহত হয়েছেন মৃতের দাদা মান্নান মিঞা সহ আরও একজন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নালিপাড়ার বাসিন্দা প্রয়াত আকরাম হক বহু বছর আগে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় সন্তান ও কন্যাদের রেখে যান।আকরাম হকের নামে তপনের বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ১২–১৩ বিঘা জমি রয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত শরিকদের মধ্যে আইনিভাবে ভাগাভাগি হয়নি। যদিও পারিবারিকভাবে মুখে মুখে জমির বণ্টন হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের একাংশের। শুক্রবার সকালে সেই জমি চাষ করতে গিয়েছিল মৃত করিম মিয়া তার ভাই মান্নান নিয়ে সহ আরো একজন।সেই খবর প্রায় আফসার মিঞার ছেলে ফারুক মিঞার ছেলে ফারুক মিয়া ও শাহরুখ মিয়া। সেখানেই গোলমালের সূত্রপাত বলে খবর।
মৃত করিম মিঞার বাবা আজগর মিঞার অভিযোগ,“শুক্রবার সকালে আমার দুই ছেলে করিম ও মান্নান নালিপাড়ার সেই জমিতে চাষের কাজে গিয়েছিল। সেই সময়ই হঠাৎ করে আমার ভাই আবসার মিঞার ছেলে ফারুক মিঞা ধারালো চাকু দিয়ে করিমের গলায় আঘাত করে। একই সময়ে তার ভাই সারুফ মিঞা লোহার যন্ত্র দিয়ে আমার আর এক ছেলে মান্নান ও আরও একজনকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিম মিঞার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালে মৃতের এক ভাই সাদ্দাম হোসেন, মৃতের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে তারা এমন খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।আমরা দোষীদের ফাঁসির শাস্তি চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তপন থানার পুলিশ।পাশাপাশি গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে যান গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার, গঙ্গারামপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্র সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা নইমুদ্দিন মিঞা জানান,”“জমি নিয়ে এমন ভয়াবহ ঘটনা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুব্রত সরকার এবং তপন থানার আইসি জনমারি ভিয়ানে লেচপা জানান,“জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে, দু’জন গুরুতর আহত। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পারিবারিক জমি বিবাদ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা নালিপাড়া এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here