সুতির বদলে পলিয়েস্টার কাপড়ের! সরকারী স্কুলের পোশাক নিয়ে ক্ষোভ অভিভাবকদের। জেলাশাসকের হস্তক্ষেপের দাবি অভিভাবক-শিক্ষকদের
বালুরঘাট, ১৭ ডিসেম্বর —— সরকারি প্রকল্পে পড়ুয়াদের জন্য সরবরাহ করা স্কুল ইউনিফর্মের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে। আটহর এফপি স্কুলে বিতরণ হওয়া পোশাক নিম্নমানের ও সম্পূর্ণ পলিয়েস্টার কাপড়ে তৈরি—এই অভিযোগে একযোগে জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বুধবার এই অভিযোগকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগের তির পতিরামের যশোদা রানি সংঘ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিকে। অভিভাবকদের দাবি, গ্রীষ্মের মরসুমে ছোট ছোট শিশুদের জন্য পলিয়েস্টার কাপড়ের পোশাক একেবারেই অনুপযুক্ত। এতে অতিরিক্ত ঘাম, চুলকানি ও শারীরিক অস্বস্তির সম্ভাবনা থাকে, যা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই শুরু থেকেই ওই ইউনিফর্ম নিতে অস্বীকার করেন তাঁরা।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অভিযোগ ওঠে—সংশ্লিষ্ট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দলনেত্রী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ।
পতিরাম থানার অন্তর্গত আটহর প্রাইমারি স্কুলে বর্তমানে ৮৪ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। তাঁদের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের টিচার-ইন-চার্জ ব্রতীন রায় জানান, “অভিভাবকরা প্রথম দিন থেকেই এই পোশাক গ্রহণ করতে চাননি। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ইউনিফর্মের কাপড় অতি নিম্নমানের ও পলিয়েস্টারের। সেই অভিযোগ লিখিতভাবে জেলাশাসককে জানানো হয়েছে।
অভিভাবক টুলটুলি হালদার ও চায়না কর্মকার বলেন, “সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা কি নিম্নমানের পোশাক পরবে? শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। অবিলম্বে এই ইউনিফর্ম বাতিল করে মানসম্মত সুতির পোশাক দেওয়া হোক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক বালা সুব্রামানিয়ান টি। অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করে পড়ুয়াদের জন্য উপযুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সুতির ইউনিফর্ম নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে বিকল্প কোনও বিশ্বাসযোগ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দায়িত্ব দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায় আটহর প্রাইমারি স্কুল ও গোটা এলাকাবাসী।



























