মেয়াদ উত্তীর্ণ ফুড লাইসেন্সে জমজমাট ব্যবসা! প্রশাসনিক গাফিলতিতে প্রশ্নের মুখে বুনিয়াদপুর পুরসভা
বালুরঘাট, ৩০ আগষ্ট —– লাইসেন্স আছে, তবে মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে বহু আগেই! তবুও দিব্যি চলছে ব্যবসা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ডে খাবারের দোকানগুলির এমনই রমরমা চিত্র সামনে আসতেই কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ দোকানের কাছেই কার্যকর ফুড লাইসেন্স নেই। যাদের আছে, তারও অনেকগুলির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে বহুদিন। অথচ পুরসভার চোখের সামনেই দিনের পর দিন চলছে এই বেআইনি কারবার। আর সেই কারণেই এবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে বুনিয়াদপুর পুরসভা।
শহরের সাধারণ মানুষের অভিযোগ—এই অগোছালো পরিবেশের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও স্থানীয়রা। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের সরব প্রশ্ন, “যদি ফুড লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, তাহলে কিভাবে ব্যবসা চলছে? পুরসভার কর্তারাই বা কী করছেন?”
স্থানীয় ব্যবসায়ী টগর সরকার ও পরিমল পাল অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের ফুড লাইসেন্স রয়েছে। তবে তাঁরা স্বীকার করেছেন, সবসময় লাইসেন্স বাইরে ঝোলানো সম্ভব হয় না। আবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কথাও স্বীকার করেছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের এই সাফাই সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি।
এ প্রসঙ্গে বুনিয়াদপুর পুরসভার পুরপ্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান কমল সরকার সাফ জানালেন, “ফুড লাইসেন্স ছাড়া কোনও অবস্থাতেই খাবারের দোকান চলতে দেওয়া হবে না। যাঁরা মেয়াদ রিনিউ না করেই ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কড়া অভিযান চালানো হবে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুড লাইসেন্স কেবল ব্যবসার অনুমতি নয়, এটি খাদ্যের নিরাপত্তা ও মানের সিলমোহর। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে খাবার বিক্রি মানেই জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে খোলাখুলি ছেলেখেলা।
ফলে প্রশ্ন একটাই—আশ্বাসে কি থেমে যাবে বিষয়টি, নাকি সত্যিই অভিযানে নামবে পুরসভা? শহরবাসীর দাবি, আর সময় নষ্ট নয়। আইন সবার জন্য সমান—এবং খাওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়।