নয়াবাজার–করদহ সড়ক বেহাল, আন্দোলনে এলাকার মহিলারা,প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

0
67


শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট
৬ই জানুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত নয়াবাজার থেকে তপন থানার করদহ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এলাকাবাসী মহিলা গৃহবধূরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলো।এই রাস্তাটি সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছে গঙ্গারামপুর থানার নয়াবাজার মোড় এলাকায়। রাস্তার বেহাল দশার পাশাপাশি কোথাও উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান জল জমে যায়। ফলে স্কুল পড়ুয়া, রোগী, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীদের চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নয়াবাজার এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বহু মহিলা গ্রামবাসী। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যকে ঘিরেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
জানা গিয়েছে,দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বহুদিন আগেই নয়াবাজার থেকে করদহ পর্যন্ত এই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। এই রাস্তার উপর নির্ভর করে নয়াবাজার, মাসনাতলা, ভূতপাড়া, বাসর ও করদহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।পাশাপাশি এই সড়কের আশপাশে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান, ফলে সমস্যার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
মঙ্গল সকাল থেকে আন্দোলনরত বাসিন্দা গৃহবধূ দীপান্বিতা প্রামানিক, মান্তি আচার্য, শিবানী প্রামানিক ও বিনা কর্মকার অভিযোগ করে বলেন,“বেহাল রাস্তার জন্য প্রতিদিন আমাদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহুবার জানানো সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”
এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সজল দাস বিক্ষোভস্থলে পৌঁছালে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে তিনি জানান,“বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়টি জেলা পরিষদের কাছে তুলে ধরা হবে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”। রাস্তা সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকি কোথাও কাজের বরাদ্দ সংক্রান্ত কোনও সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান নিয়ে।
এবিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তা বিহা জানান,“কেন কাজ ধীরগতিতে চলছে, তা ঠিকাদারের কাছে জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা দ্রুত দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবশেষে পথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।তবে এখন প্রশ্ন একটাই,এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ কবে বাস্তবে শুরু হবে এবং কবে নাগাদ মিলবে স্থায়ী সমাধান?
সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নয়াবাজারসহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here