বিদ্যালয়ছুট তিন কিশোরীকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করাল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, সাধুবাদ জানালেন সকলেই

0
45

শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশু থেকে কিশোরীদের শিক্ষার মূলস্রোতে ফেরাতে মানবিক উদ্যোগ নিল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ছুট তিন কিশোরীকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করিয়ে শিক্ষার আলোয় ফেরালেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্যরা।
জানা গেছে,গঙ্গারামপুর ব্লকের পার্বতীপুর জামডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা পিংকি কর্মকার, সাগরি কর্মকার ও রিয়া কর্মকার নামে তিন কিশোরীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ছুট ছিল।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সকালে তাদের পুনরায় মির্জাপুর জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়।
আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের অধিকার মিত্র তথা পিএলভি গোলাম রব্বানী নিজে উদ্যোগ নিয়ে টোটোতে করে ওই তিন কিশোরীকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। পিংকি কর্মকারকে অষ্টম শ্রেণীতে, সাগরি কর্মকারকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবং রিয়া কর্মকারকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে বই, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে অধিকার মিত্র তথা পিএলভি গোলাম রব্বানী বলেন,“নিকট আত্মীয়-স্বজন না থাকার কারণেই এতদিন তারা স্কুলছুট ছিল। খবর পেয়েই তাদের ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে।”
পুনরায় স্কুলে ভর্তি হয়ে খুশি পিংকি, সাগরি ও রিয়ারা জানায়,“ নিকট আত্মীয় না থাকার জন্য পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার স্কুলে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। অধিকার মিত্র দাদাকে ধন্যবাদ জানাই।”
তিন কিশোরীর আত্মীয়রাও জানান,“সমস্যা হয়েছিল কাছের মানুষের অভাবে। এখন মনে হচ্ছে ওদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।অধিকার মিত্র তথা পিএলভি গোলাম বাবুকে ধন্যবাদ জানাই।”
মির্জাপুর জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমলেশচন্দ্র রায় বলেন,“পিএলভিদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।আমরা এই মানবিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।”
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি তথা বিচারক কিয়া বালার নির্দেশে অধিকার মিত্র তথা পিএলভিরা যে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন, তা এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলেই মনে করছে অনকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here